নিউজবাংলা ডেস্ক | কাঁথি : সরকারিজমিকেলেঙ্কারিতেনামজড়িয়েশ্রীঘরেঠাঁইহলতৃণমূলপরিচালিতএগরাপুরসভারচেয়ারম্যানস্বপননায়েকের।শুক্রবারকলকাতাথেকেতাঁকেগ্রেফতার (Egra Municipality)করেএগরাথানারপুলিশ।শনিবারতাঁকেকাঁথিমহকুমাআদালতেতোলারসময়তাঁরচোখে…
নিউজবাংলা ডেস্ক | কাঁথি : সরকারি জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে শ্রীঘরে ঠাঁই হল তৃণমূল পরিচালিত এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নায়েকের। শুক্রবার কলকাতা থেকে তাঁকে গ্রেফতার (Egra Municipality) করে এগরা থানার পুলিশ। শনিবার তাঁকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলার সময় তাঁর চোখে-মুখে কেবল ক্ষোভ নয়, ঝরে পড়ল দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিষাদও। খাস তৃণমূল নেতার মুখেই শোনা গেল দলের প্রতি একরাশ অভিমান।
আদালতে
ঢোকার মুখে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বপনবাবু। তিনি বলেন, “আমি ৫৫ বছর ধরে
দল করছি। তার উপকার এই পেলাম! যেদিন
পুরসভার অনাস্থা ভোটে জিতলাম, ঠিক সেদিনই আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হল।” তাঁর এই বয়ানে রাজনৈতিক
মহলে প্রশ্ন উঠেছে— তবে কি দলের অন্দরের
কোনও ‘সমীকরণ’ মেলাতেই তাঁকে এই পরিস্থিতির মুখে
ঠেলতে হল?
আরও পড়ুন : শেষরক্ষা হল না! বিদ্রোহ আর দুর্নীতির সাঁড়াশি চাপে গ্রেফতার এগরার ‘অনড়’ চেয়ারম্যান !
আরও পড়ুন : এক টাকায় লজেন্স, আর দু’টাকায় দুপুরের খাবার! মহিষাদলে অবাক কাণ্ড।
পুলিশ
সূত্রের খবর, গত ২০ ডিসেম্বর
এগরা ১ ব্লকের বিএলআরও
(BLRO) তরুণকুমার মাইতি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি ছিল এগরা পুর এলাকার একলাবাদের একটি সরকারি জমিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২২ অগস্ট কোনও
রেজিস্ট্রি ডিড ছাড়াই নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি সরকারি জমি লিজ দিয়েছিলেন পুরপ্রধান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং নথিপত্র জালিয়াতির মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
যদিও নিজের অবস্থানে অনড় স্বপন নায়েক। তাঁর দাবি, এই জমি বিতর্ক আজকের নয়। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন পুরবোর্ড বাম জমানার ভূমি মন্ত্রীর কাছে নতুন শহর গড়ার জন্য জমির আবেদন জানিয়েছিল। তৎকালীন ডিএলআরও ৮০ ডেসিমেল জায়গা শ্মশান থেকে পুরসভার নামে ‘কনভার্ট’ করে দেন।
স্বপনবাবুর বক্তব্য, “ওই জমিতে বাজার ছিল, কিন্তু পরে বেদখল হয়ে যায়। বর্তমান বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েই আমরা সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করেছিলাম।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এগরার রাজনৈতিক সমীকরণে এই গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যে দিন অনাস্থা ভোটে জিতে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখলেন চেয়ারম্যান, সেদিনই কেন তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর— এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে এগরার অলিতে-গলিতে। এই ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরের ‘গোষ্ঠী কোন্দল’ নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান, কোনটা আসল কারণ— তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে জেলায়।
No comments