নিউজবাংলা | কাঁথি : এগরাপুরসভারচেয়ারম্যানস্বপননায়েকেরশেষরক্ষাহলনা।সরকারিজমিকেলেঙ্কারিতেনামজড়িয়েঅবশেষেশ্রীঘরেঠাঁইহলদাপুটেএইতৃণমূলনেতার।শুক্রবারকলকাতাথেকেতাঁকেগ্রেফতারেরপরশনিবারকাঁথি (Egra Municipality)মহকুমাআদালতেতোলাহলেবিচারকতাঁক…
| গ্রাফিক্স - নিউজবাংলা ডিজিটাল ডেস্ক |
নিউজবাংলা | কাঁথি : এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নায়েকের শেষরক্ষা হল না। সরকারি
জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে অবশেষে শ্রীঘরে ঠাঁই হল দাপুটে এই
তৃণমূল নেতার। শুক্রবার কলকাতা থেকে তাঁকে গ্রেফতারের পর শনিবার কাঁথি
(Egra Municipality) মহকুমা
আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি
হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই গ্রেফতারি নিয়ে
শনিবার আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের প্রতি নিজের
ক্ষোভ চেপে রাখেননি তিনি।
এদিন আদালত চত্বরে ঢোকার মুখে পুলিশের ঘেরাটোপেই কানায় কানায় জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্বপন বলেন, “৫৫ বছর ধরে দল করার এই পুরস্কার পেলাম! যেদিন অনাস্থা ভোটে জিতে নিজের ক্ষমতা প্রমাণ করলাম, ঠিক সেই দিনই আমার বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হল।” পুরপ্রধানের এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, তবে কি নিজের দলেরই অন্দরের কোনও ‘সমীকরণে’ বলি হলেন স্বপন নায়েক? এগরার অলিতে-গলিতে এখন একটাই আলোচনা— এই গ্রেফতারি কি নিছকই প্রশাসনিক পদক্ষেপ, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে সুগভীর কোনও রাজনৈতিক চক্রান্ত?
আরও পড়ুন : Egra ; শেষরক্ষা হল না! বিদ্রোহ আর দুর্নীতির সাঁড়াশি চাপে গ্রেফতার এগরার ‘অনড়’ চেয়ারম্যান !
আরও পড়ুন : ‘৫৫ বছর দল করার পুরস্কার পেলাম’, জমি কেলেঙ্কারিতে ধৃত এগরার পুরপ্রধানের নিশানায় কি নিজের দলই?
গত
২০ ডিসেম্বর এগরা ১ ব্লকের বিএলআরও
(BLRO) তরুণকুমার মাইতি এগরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট একলাবাদ
এলাকায় একটি সরকারি জমি আইনকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জনৈক ব্যক্তিকে লিজ দিয়েছিলেন চেয়ারম্যান। কোনও প্রকার রেজিস্ট্রি ডিড ছাড়াই এই কাজ করা
হয়েছিল বলে দাবি প্রশাসনের। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই
পুলিশ প্রতারণা ও নথিপত্র জাল
করার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে।
যদিও জেলযাত্রার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় স্বপনবাবু। তাঁর সাফাই, “এই জমি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে একটি নতুন শহর গড়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই সময় শ্মশানের জমিকে পুরসভার নামে ‘কনভার্ট’ করা হয়। ওই জায়গায় আগে বাজার ছিল, যা কালক্রমে বেদখল হয়ে যায়। আমরা বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েই সেই জমি পুনরুদ্ধার করেছি।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এগরার রাজনীতিতে স্বপন নায়েকের গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে যেতে হল, তার সত্যতা প্রমাণের দায়িত্ব এখন তদন্তকারীদের ওপর। তবে দলের এক প্রবীণ নেতার এমন ‘বিদ্রোহী’ সুর জেলার ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই যেন আরও একবার বেআব্রু করে দিল।
No comments