Kolkata : নরেন্দ্রপুরে থার্মোকল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫ নিখোঁজের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই ১৩, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবে তো? প্রশ্ন তমলুক-পাঁশকুড়ায় ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Kolkata : নরেন্দ্রপুরে থার্মোকল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫ নিখোঁজের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই ১৩, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবে তো? প্রশ্ন তমলুক-পাঁশকুড়ায় !

নিউজবাংলা | কলকাতা ও তমলুক : নাজিরাবাদের আকাশ থেকে কালো ধোঁয়া হয়তো কিছুটা থিতিয়েছে, কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ জনপদে কান্নার রোল থামছে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে একটি বহুজাতিক মোমো সংস্থার গুদাম ও থার্মোকল কারখানায়…

 


নিউজবাংলা | কলকাতা ও তমলুক : নাজিরাবাদের আকাশ থেকে কালো ধোঁয়া হয়তো কিছুটা থিতিয়েছে, কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ জনপদে কান্নার রোল থামছে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে একটি বহুজাতিক মোমো সংস্থার গুদাম ও থার্মোকল কারখানায় রবিবারের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের রেশ আছড়ে পড়ল এই জেলায়। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এখনও পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুরের অন্তত ১৩ জন শ্রমিকের হদিস নেই।

​সোমবার রাত পর্যন্ত পুলিশের প্রাথমিক তালিকায় মৃতের সংখ্যা ৩ জানানো হলেও, পুলিশ সূত্রের খবর— অন্তত সাতটি দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালসার দেহগুলি কার, তা শনাক্ত করা এখন পরিবারের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন জেলার একাধিক ব্লকের বাসিন্দা। ডেকরেটার্সের কাজে দক্ষ এই শ্রমিকরা কারখানার ভেতরেই থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন:

  • পাঁশকুড়া: শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই।
  • ময়না: বুদ্ধদেব জানা, সৌমিত্র মণ্ডল।
  • তমলুক: দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা।
  • নন্দকুমার: সন্দীপ মাইতি (বরগোদা এলাকা)।

​নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও প্রিয়জনের খোঁজ মিলছে না। আগুনের লেলিহান শিখা যখন গ্রাস করেছিল নাজিরাবাদের ওই গুদাম, তখন ভেতরে ঠিক কতজন ছিলেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান মেলেনি।

​"সরকার নিখোঁজ পরিবারগুলির পাশে আছে। আমাদের আধিকারিকরা যোগাযোগ রাখছেন। একটি বিশেষ দল গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

ইউনিস রিসিন ইসমাইল, জেলাশাসক, পূর্ব মেদিনীপুর।

​রবিবার রাত ৩টে নাগাদ নাজিরাবাদের ওই বিশাল গুদামে আগুন লাগে। সেখানে মজুত ছিল থার্মোকল, নরম পানীয় এবং বিপুল পরিমাণ শুকনো খাবারের প্যাকেট। দাহ্য বস্তু থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার রাত ৯টা বেজে গেলেও এলাকা থেকে পোড়া গন্ধ সরেনি। মাঝে মাঝেই ধিকিধিকি আগুন জ্বলে উঠছে ধ্বংসস্তূপের নিচে।

​পুলিশ সূত্রে খবর, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০টি পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া দেহগুলির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

​কারখানাটিতে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ডেকরেটার্সের কাজের জন্য যে থার্মোকলের নকশা তৈরি হতো, তা অত্যন্ত দাহ্য। কাজ শেষে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরেই ঘুমোতেন। আগুনের গ্রাস থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি অনেকেই। এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। তবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে এখন শুধুই স্বজন হারানোর হাহাকার। মৃতদেহগুলি শনাক্ত করতে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও নরেন্দ্রপুরের পথে রওনা দিয়েছেন নিখোঁজদের পরিজনেরা।


No comments