নিউজবাংলা, মহিষাদল : মেকআপ নেই, নেই চড়া আলোর আস্ফালন। শুধু তেরো-চোদ্দো জোড়া হাত আর কণ্ঠের জাদুতে সোমবার সন্ধেয় মহিষাদল দেখল এক পলিমাটির মহাকাব্য। নদীর বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে থাকা কলকাতার গোড়াপত্তন থেকে রবি ঠাকুরের নাট্যবিলাস— ইতিহাসে…
নি
উজবাংলা, মহিষাদল : মেকআপ নেই, নেই চড়া আলোর আস্ফালন। শুধু তেরো-চোদ্দো জোড়া হাত আর কণ্ঠের জাদুতে সোমবার সন্ধেয় মহিষাদল দেখল এক পলিমাটির মহাকাব্য। নদীর বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে থাকা কলকাতার গোড়াপত্তন থেকে রবি ঠাকুরের নাট্যবিলাস— ইতিহাসের উজান বয়ে চলল রবীন্দ্র পাঠাগারের মঞ্চে। ‘সকলের কথা’ পরিবারের আয়োজনে শঙ্খমালার এই প্রযোজনা বুঝিয়ে দিল, নাটক যখন জীবন হয়, তখন সাজসজ্জা গৌণ হয়ে যায়।
গতানুগতিক থিয়েটারের ঘেরাটোপ ভেঙে এই উপস্থাপনা ছিল একেবারেই ছকভাঙা। চড়া মেকআপ নেই, নেই জমকালো পোশাকের আড়ম্বর। অথচ মঞ্চ জুড়ে বয়ে চলল আদিগন্ত গঙ্গা। নদীর পথ বেয়ে কী ভাবে তিল তিল করে গড়ে উঠল তিলোত্তমা কলকাতা, কী ভাবেই বা তার স্রোত বেগে বয়ে চলল ইতিহাসের চাকা— সেই কাহিনিই ফুটে উঠল অভিনব আঙ্গিকে। কখনও শ্রুতি নাটক, কখনও পাঁচালি, আবার কখনও কোরাসের সম্মিলিত স্বরে মঞ্চ হয়ে উঠল উত্তাল।
নাটকের প্রতিটি মোড় যেন বাঙালির মননের বিবর্তনকে স্পর্শ করে গিয়েছে। মঞ্চে ফুটে উঠেছে:
দুই মেরুর মিলন: দক্ষিণেশ্বরের পথে গিরিশ ঘোষের সঙ্গে তরুণ বিবেকানন্দের সেই ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব এবং শেষমেশ একে অপরকে আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বার্থত্যাগের জয়গান।

No comments