Mahishadal : একটা নদী, একটা শহর আর একরাশ না বলা ইতিহাস ; রঙ-রূপটানহীন শঙ্খমালার নাট্যবিপ্লবের জাদুতে মুগ্ধ মহিষাদল ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Mahishadal : একটা নদী, একটা শহর আর একরাশ না বলা ইতিহাস ; রঙ-রূপটানহীন শঙ্খমালার নাট্যবিপ্লবের জাদুতে মুগ্ধ মহিষাদল !

নিউজবাংলা, মহিষাদল : মেকআপ নেই, নেই চড়া আলোর আস্ফালন। শুধু তেরো-চোদ্দো জোড়া হাত আর কণ্ঠের জাদুতে সোমবার সন্ধেয় মহিষাদল দেখল এক পলিমাটির মহাকাব্য। নদীর বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে থাকা কলকাতার গোড়াপত্তন থেকে রবি ঠাকুরের নাট্যবিলাস— ইতিহাসে…

 

নি

উজবাংলা, মহিষাদল : মেকআপ নেই, নেই চড়া আলোর আস্ফালন। শুধু তেরো-চোদ্দো জোড়া হাত আর কণ্ঠের জাদুতে সোমবার সন্ধেয় মহিষাদল দেখল এক পলিমাটির মহাকাব্য। নদীর বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে থাকা কলকাতার গোড়াপত্তন থেকে রবি ঠাকুরের নাট্যবিলাস— ইতিহাসের উজান বয়ে চলল রবীন্দ্র পাঠাগারের মঞ্চে। ‘সকলের কথা’ পরিবারের আয়োজনে শঙ্খমালার এই প্রযোজনা বুঝিয়ে দিল, নাটক যখন জীবন হয়, তখন সাজসজ্জা গৌণ হয়ে যায়।

গতানুগতিক থিয়েটারের ঘেরাটোপ ভেঙে এই উপস্থাপনা ছিল একেবারেই ছকভাঙা। চড়া মেকআপ নেই, নেই জমকালো পোশাকের আড়ম্বর। অথচ মঞ্চ জুড়ে বয়ে চলল আদিগন্ত গঙ্গা। নদীর পথ বেয়ে কী ভাবে তিল তিল করে গড়ে উঠল তিলোত্তমা কলকাতা, কী ভাবেই বা তার স্রোত বেগে বয়ে চলল ইতিহাসের চাকা— সেই কাহিনিই ফুটে উঠল অভিনব আঙ্গিকে। কখনও শ্রুতি নাটক, কখনও পাঁচালি, আবার কখনও কোরাসের সম্মিলিত স্বরে মঞ্চ হয়ে উঠল উত্তাল।

নাটকের প্রতিটি মোড় যেন বাঙালির মননের বিবর্তনকে স্পর্শ করে গিয়েছে। মঞ্চে ফুটে উঠেছে:

বিদ্রোহের আগুন: মাইকেল মধুসূদন দত্তর আধুনিকতার লড়াই এবং গোঁড়া সমাজের বিরুদ্ধে তাঁর জেহাদ।
​বিজ্ঞান ও বেতার: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর থেকে জগদীশ চন্দ্র বসুর অবদান, এবং বাঙালির উদ্ভাবনী শক্তি কী ভাবে ব্রিটিশরা ছিনিয়ে নিল, তার করুণ আখ্যান।

দুই মেরুর মিলন: দক্ষিণেশ্বরের পথে গিরিশ ঘোষের সঙ্গে তরুণ বিবেকানন্দের সেই ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব এবং শেষমেশ একে অপরকে আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বার্থত্যাগের জয়গান।

গল্প শুধু ঐতিহ্যে থমকে থাকেনি। ১৩-১৪ জনের এই কুশলী দলটি দর্শকদের টেনে নিয়ে গিয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের রক্তাক্ত দিনগুলিতে। ঋষি অরবিন্দের দেশভক্তি থেকে জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংসতা— কবির কলমে উঠে আসা সেই তীব্র যন্ত্রণা যেন মঞ্চে প্রাণ পেল। দেশভাগ, দাঙ্গা আর দুর্ভিক্ষের কালবেলায় কলকাতার মাটি যে ভাবে বারবার রক্তে ধুয়ে গিয়েছে, সেই বিষাদমাখা মুহূর্তগুলো দেখে দর্শকমহল আক্ষরিক অর্থেই নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।
​শঙ্খমালার এই অভাবনীয় উপস্থাপনায় কখনও হাস্যরস, কখনও বা নাটকের তীব্র সংঘাত— সব মিলিয়ে রবীন্দ্র পাঠাগারের কয়েক’শ মানুষ ছিলেন কার্যত সম্মোহিত। কাহিনীকারদের সাবলীল অভিনয় আর গানের মূর্ছনা বুঝিয়ে দিল, ভালো গল্পের জন্য বহুমূল্য মঞ্চসজ্জার প্রয়োজন পড়ে না, প্রয়োজন শুধু আন্তরিক দায়বদ্ধতা। মহিষাদলের শান্ত সন্ধেয় ‘জলস্রোত’ যেন এক নতুন নাট্য-ভাষার জন্ম দিয়ে গেল।


No comments