নিউজবাংলা, শান্তিপুর : শরীর সঙ্গ দেয়নি বারবার। যন্ত্রণায় নীল হয়েছে শৈশব। এক মাসে বিঁধতে হয়েছে প্রায় ৭০০টি ইনজেকশন। কিন্তু শান্তিপুরের পার্থ দে প্রমাণ করে দিল, অদম্য জেদ আর ইচ্ছাশক্তির (Madhyamik 2026) কাছে মরণব্যাধিও হার মানতে বা…
নদিয়ার শান্তিপুর ব্লকের নতুনহাট এলাকার বাসিন্দা পার্থ দে। ছোট থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী হলেও ভাগ্যের পরিহাসে সাত বছর বয়সে তার শরীরে থাবা বসায় এক জটিল রক্তঘটিত ব্যাধি। চিকিৎসকদের পরিভাষায় যা ছিল ক্যানসারের ঠিক আগের স্তর। শুরু হয় এক দীর্ঘ লড়াই। সে সময় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এক মাসে ৭০০টি ইনজেকশন নিতে হয়েছিল পার্থকে। শৈশব তখন খেলাধুলা ভুলে হাসপাতালের সাদা চাদর আর ওষুধের গন্ধে বন্দি।
গত বছরও পার্থ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল। কিন্তু শরীরের অসহ্য যন্ত্রণার কাছে হার মেনে মাত্র তিনটি পরীক্ষা দেওয়ার পর সেবার থমকে যেতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র নয় পার্থ। এক বছর বিরতি নিয়ে ফের কোমর বেঁধে নামে সে। এ বছর শরীর কিছুটা সঙ্গ দেওয়ায় নতুন করে পরীক্ষায় বসেছে। যদিও ভূগোল পরীক্ষার দিন শারীরিক অস্বস্তিতে খানিক সমস্যা হয়েছিল, কিন্তু বাকি পরীক্ষাগুলো সে দিয়েছে বেশ সাবলীলভাবেই।
পার্থর বাবা উত্তম দে পেশায় সামান্য এক মুদি দোকানদার। একমাত্র সন্তানের এই মরণপণ লড়াইয়ে পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তিনি জানান, "ছেলের যখন সাত বছর বয়স, তখন থেকেই এই লড়াই শুরু। এখন অনেকটা সুস্থ হলেও নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু অর্থাভাব আমাদের নিত্যসঙ্গী।" চিকিৎসার বিশাল খরচ জোগাতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে এই পরিবারটিকে। তবুও উত্তমবাবুর চোখেমুখে তৃপ্তির হাসি, কারণ তাঁর ছেলে হার মানেনি।
শান্তিপুরের মানুষের কাছে পার্থ এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। যে বয়সে সামান্য জ্বরে অনেক পড়ুয়া মুষড়ে পড়ে, সেখানে কয়েকশ ইনজেকশনের ক্ষত আর আর্থিক অনটনকে সঙ্গী করেও পার্থর এই লড়াই বুঝিয়ে দিচ্ছে— ইচ্ছে থাকলে সত্যিই সব হয়। এখন শুধু ফল প্রকাশের অপেক্ষা, পার্থর স্বপ্ন আগামী দিনে আরও বড় হওয়ার।
তথ্যসূত্র – নিউজ১৮বাংলা
No comments