নিউজবাংলা | কলকাতা : অসমের ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হলো কয়েক লক্ষ ‘সন্দেহজনক’ নাম। আর এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির সক্রিয় ভূমিকা— বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনই দাবি করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।তাঁর …
নিউজবাংলা | কলকাতা : অসমের ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হলো কয়েক লক্ষ ‘সন্দেহজনক’ নাম। আর এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির সক্রিয় ভূমিকা— বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনই দাবি করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
তাঁর সাফ কথা, ‘‘যতটা সম্ভব আমাদের দলের সদস্যেরা অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতেই এই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’’ হিমন্তের এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্য়েই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
মঙ্গলবারই অসমে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ সংশোধন’ (স্পেশ্যাল রিভিশন)-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই পরিসংখ্যান বলছে:
- বর্তমানে অসমে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ৪৯ লক্ষ।
- খসড়া তালিকার তুলনায় ভোটার সংখ্যা কমেছে প্রায় ০.৯৭ শতাংশ।
- তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রায় ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ভোটার।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই সংখ্যাটি হিমশৈলের চূড়ামাত্র। তাঁর কথায়, ‘‘এটা তো সবে শুরু। স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) হলে এই ধরনের আরও অনেকের নাম বাদ যাবে।’’ বাংলাদেশে থেকে আসা ‘অনুপ্রবেশকারী’দের বিরুদ্ধে লড়াই যে জারি থাকবে, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
হিমন্তের দাবি, বিজেপির কর্মীরা বুথ স্তরে বিএলও-দের কাছে অকাট্য প্রমাণ দিয়ে বোঝাতে পেরেছেন যে, যাঁদের নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাঁরা আর অসমে বাস করেন না।
‘‘অনেকে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমরা সফল হয়েছি।’’ — হিমন্ত বিশ্বশর্মা
অসমের এই সাফল্যের কাহিনির সমান্তরালে উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গও। অভিযোগ উঠেছে বাংলাতেও একই কায়দায় ‘স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন’-এর সময় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। হাতিয়ার করা হয়েছিল ‘ফর্ম ৭’ (নাম বাদ দেওয়ার আবেদনপত্র)।
তবে অসমের সঙ্গে বাংলার পরিস্থিতির তফাত চোখে পড়ার মতো। এ রাজ্যে অভিযোগ উঠেছে যে, স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই ‘পর্দা ফাঁস’ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গেরুয়া শিবিরের বহু কর্মী। এমনকি, অবৈধ ভাবে নাম বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা করায় বাংলার বেশ কিছু বিজেপি কর্মীকে জেলযাত্রাও করতে হয়েছে। যদিও বিজেপির দাবী, সন্দেহজনক ভোটারের সম্পর্কে ফর্ম ৭ জমা দেওয়া একজন প্রকৃত নাগরিকের অধিকার। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারনে সন্দেহজনক ভোটারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় বিজেপির লোকেদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে।
তবে অসমে যখন হিমন্ত এই পদক্ষেপকে ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছেন, বাংলার শাসকদল একে দেখছে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হিসেবে। সীমান্ত লাগোয়া দুই রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে এখন সরগরম জাতীয় রাজনীতি।

No comments