নিউজবাংলা, তমলুক:পূর্বমেদিনীপুরজেলারাজনীতিতেএকনজিরবিহীননাটকীয়মোড়।জেলারসমস্তরাজনৈতিকসমীকরণকেওলটপালটকরেঅবশেষেপদত্যাগকরলেনপূর্বমেদিনীপুরজেলাপরিষদেরসভাধিপতিতথাতৃণমূলেরদাপুটেনেতাউত্তমবারিক।ছাব্বিশেরবিধানসভানির্বাচনেজেলার১৬টিআসনেরসবক…
নিউজবাংলা, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলা রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। জেলার সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে অবশেষে পদত্যাগ করলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা উত্তম বারিক। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১৬টি আসনের সবকটিতেই ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) অভূতপূর্ব জয়লাভের পর, এই চরম রাজনৈতিক বিপর্যয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করেই তিনি নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে
উত্তম বারিক জানান, "জনগণের রায় গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে। নিশ্চিতভাবেই সেই রায়কে মাথা পেতে নিতে হবে। যখন মানুষ আর চাইছেন না, তখন জোরাজুরি করে পদে টিকে থেকে পদের অবমাননা করা উচিত নয়। জনগণের রায় যেহেতু আমাদের কাছ থেকে সরে গিয়েছে, তাই নৈতিক দায়িত্ব মেনেই সরে আসছি।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চণ্ডীপুর আসন
থেকে
তৃণমূল
কংগ্রেসের টিকিট
পেয়েও
বিজেপির কাছে
বিপুল
ব্যবধানে পরাজিত
হওয়াটাই উত্তমের এই
ইস্তফাকে ত্বরান্বিত করেছে।
উত্থান ও পতনের খতিয়ান: অধিকারীদের ছায়া থেকে ক্ষমতার অলিন্দে
পটাশপুরের প্রাক্তন তৃণমূল
বিধায়ক
উত্তম
বারিকের রাজনৈতিক গ্রাফটি বেশ
কৌতূহল
উদ্দীপক। একদা
পূর্ব
মেদিনীপুরের অঘোষিত
অধিপতি
তথা
বর্তমান বিজেপি
নেতা
শুভেন্দু অধিকারীর হাত
ধরেই
পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে উত্তমের উত্থান
ঘটেছিল। শুভেন্দুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে
পরিচিত
উত্তম
বারিক
২০২১
সালের
বিধানসভা নির্বাচনে পটাশপুর থেকে
বিধায়ক
নির্বাচিত হন।
তবে
শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল
ত্যাগ
করে
বিজেপিতে যোগ
দেওয়ার
পর,
উত্তম পূর্ব মেদিনীপুরে দলবদলের স্রোতে
গা
না
ভাসিয়ে
তৃণমূলের প্রথম
সারির
সেনাপতি হিসেবে
শুভেন্দু-বিরোধী
শিবিরে
নিজেকে
প্রতিষ্ঠিত করেন।
ফলস্বরূপ, পটাশপুরের বিধায়ক
ও জেলা
পরিষদের সভাধিপতির মতো
অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও
শক্তিশালী প্রশাসনিক পদের
গুরুদায়িত্ব তাঁর
কাঁধে
সঁপে
দেয়
তৃণমূল
শীর্ষ
নেতৃত্ব। কিন্তু
চব্বিশের লোকসভা
এবং
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে উত্তরমের সেই
ক্ষমতার ভিত
নড়ে
যায়। এবার চণ্ডীপুর কেন্দ্র থেকে
তৃণমূলের হয়ে
লড়াই
করলেও
শেষরক্ষা করতে
পারেননি তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে
একের
পর
এক
ধাক্কায় শেষ
পর্যন্ত নিজের
ক্ষমতা
ও
পদ—
দুই-ই হারাতে হলো
উত্তমকে।
পূর্ব
মেদিনীপুরে ঘাসফুলের
মহাপতন: ২০০৭-এর নন্দীগ্রাম থেকে ছাব্বিশের ১৬-০
২০০৭
সালের
ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ওপর
ভর
করেই
বামফ্রন্টের তিন
দশকের
দুর্গে
ফাটল
ধরিয়েছিল মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল
কংগ্রেস। তৎকালীন পূর্ব মেদিনীপুরের সেই
আন্দোলনের প্রধান
কাণ্ডারি ছিল
অধিকারী পরিবার। ২০১১
থেকে
২০২১—
সুদীর্ঘ এক
দশক
পূর্ব
মেদিনীপুর জেলা
ছিল
তৃণমূলের ক্ষমতার অন্যতম
প্রধান
উৎসস্থল ও
গড়।
কিন্তু
২০২০
সালের
ডিসেম্বরে শুভেন্দু অধিকারীর পদ্মশিবিরে যোগদানের পরেই
জেলার
চেনা
রাজনৈতিক জমিতে
ফাটল
ধরতে
শুরু
করে।
গত
চব্বিশের লোকসভা
নির্বাচনেই তার
স্পষ্ট
ইঙ্গিত
মিলেছিল, আর
এবার
বিধানসভা নির্বাচনে জেলার
১৬টি
আসনের
সবকটিতেই ১৬-০ ব্যবধানে পদ্ম
ফোটাল
বিজেপি। যে
জেলা
থেকে
তৃণমূলের উত্থানের সূচনা
হয়েছিল,
সেই
মেদিনীপুরেই এখন
শাসকদলের অস্তিত্বের সংকট
তীব্র
রূপ
ধারণ
করেছে।
শুভেন্দুর জয়গান গেয়ে শেষলগ্নে বামদেবের তীব্র বাণ
শেষলগ্নে জেলা
পরিষদের বিরোধী
দলনেতা
তথা
প্রবীণ
বিজেপি
নেতা
বামদেব
গুছাইত
তীব্র
রাজনৈতিক বাণ
ছুড়েছেন বিদায়ী
সভাধিপতির দিকে।
বামদেবের বক্তব্য অনুযায়ী, এই
পদত্যাগকে সম্পূর্ণ 'অবশ্যম্ভাবী' বলে
বর্ণনা
করেছেন।
তাঁর
কথায়,
"মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র ও রাজ্যের জননেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে যেভাবে প্রতিদিন এই জেলায় একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে, তা দেখে মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। সভাধিপতির এই শুভবুদ্ধির উদয় ও বোধোদয়কে স্বাগত জানাচ্ছি। বাকিদেরও বলব, কালবিলম্ব না করে শুভেন্দুবাবুর দেখানো উন্নয়নের যজ্ঞে শামিল হোন।"
উত্তম
বারিকের এই
পদত্যাগের পর
এখন
পূর্ব
মেদিনীপুর জেলা
পরিষদের প্রশাসনিক রাশ
কার
হাতে
যায়
এবং
তৃণমূল
এই
বিপর্যয় কীভাবে
সামাল
দেয়,
সেটাই
এখন
দেখার।

No comments