নিউজবাংলা প্রতিবেদন: চাকরী দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে মহিষাদলের প্রাক্তন তৃনমূল বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তী’কে। বৃহস্পতিবার তাঁকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে নিয়ে গেলে বিচারক তি…
নিউজবাংলা প্রতিবেদন: চাকরী দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে মহিষাদলের প্রাক্তন তৃনমূল বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তী’কে। বৃহস্পতিবার তাঁকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে নিয়ে গেলে বিচারক তিলককে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন তিলক।
মহিষাদলের সদ্য প্রাক্তন বিধায়ক জানান, "আমাকে সম্পূর্ণ চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে আমার বিরুদ্ধে।" কোটি কোটি টাকার চাকরি-প্রতারণা মামলায় বুধবার মাঝরাতে গ্রেফতার হওয়ার পর, বৃহস্পতিবার আদালতে যাওয়ার পথে ঠিক এই ভাষাতেই নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন মহিষাদলের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী।
গেওখালী জল প্রকল্পে চাকরি
দেওয়ার নামে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে যখন তোলপাড় পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতি, তখন ধৃত প্রাক্তন বিধায়কের এই বিস্ফোরক দাবি
ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।
📌 কাঠগড়ায়
প্রাক্তন বিধায়ক: কী বললেন তিলক?
বুধবার
গভীর রাতে মহিষাদলের নিজের বাড়ি থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার হন তিলক চক্রবর্তী।
বৃহস্পতিবার সকালে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে তাঁকে এবং তাঁর ছায়াসঙ্গী ছবিলাল মাইতিকে মহিষাদল বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল
থেকে বেরোনোর সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁকে ছেঁকে ধরলে অত্যন্ত গম্ভীর মুখে তিলক জানান—
"আমাকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে সেটা পুলিশ বলতে পারবে।"
এরপর
সরাসরি চাকরি দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, "সেটা সময়
বলবে। মিথ্যে মামলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। আমাকে পুরোপুরি ফাঁসানো হয়েছে।" পরবর্তীতে হলদিয়া আদালতে পেশ করার সময়ও একই দাবিতে অনড় থাকতে দেখা যায় মহিষাদলের এই প্রাক্তন দাপুটে
নেতাকে।
🚨 গ্রেফতারির
নেপথ্যে: মাঝরাতের হাইভোল্টেজ ড্রামা
তিলক
চক্রবর্তীর এই 'ফাঁসানো'র দাবির সমান্তরালে
পুলিশ কিন্তু অন্য গল্প বলছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মহিষাদলের বিজেপি প্রার্থী সুভাষচন্দ্র পাঁজার কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন তিলক। রাজনৈতিক
মহলের মতে, ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তাঁর
পায়ের তলার মাটি সরতে শুরু করেছিল। বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীদের লাগাতার চাপের মুখে পড়ে গত বেশ কিছুদিন
ধরে কার্যত ‘গা ঢাকা’ দিয়েছিলেন
তিনি।
বুধবার
রাতে তিনি চুপিচুপি নিজের বাড়িতে ফিরেছেন— গোপন সূত্রে এই খবর পৌঁছায়
মহিষাদল থানার পুলিশের কাছে। আর দেরি না
করে রাত প্রায় ১১টা নাগাদ তিনটি গাড়ি বোঝাই পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আচমকাই ঘিরে ফেলে প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি। বাড়ি থেকে তিলককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং বয়ান
খতিয়ে দেখার পর রাতেই তাঁকে
গ্রেফতার করা হয়।
💼 গেওখালী
জল প্রকল্প ও অন্যান্য তৃণমূল
নেতার ‘গা ঢাকা’
তদন্তকারী
সূত্রে খবর, মূলত গেওখালী জল প্রকল্পে চাকরি
পাইয়ে দেওয়ার নামে এক ব্যক্তির থেকে
মোটা অঙ্কের টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তিলক ও ছবিলালের বিরুদ্ধে।
তবে এই দুর্নীতির জাল
আরও গভীরে। তিলক
গ্রেফতার হলেও, দলের বাকি প্রভাবশালী নেতারা বর্তমানে গণরোষ ও পুলিশের ভয়ে
গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
⚖️
রাজনৈতিক চাপানউতোর : অস্বস্তিতে তৃণমূল, সুর চড়াল বিজেপি
তিলক
চক্রবর্তী নিজেকে 'নির্দোষ' দাবি করলেও, তাঁর এই গ্রেফতারির পর
হলদিয়া মহকুমায় তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সদ্য নির্বাচনে হারের পর এই আর্থিক
কেলেঙ্কারির দাগ দলের ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, তিলকের বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির সাফ দাবি, "আইন নিজের পথেই চলছে। ক্ষমতার দম্ভে এতদিন ধরে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে যারা টাকা লুট করেছে, এই পরিণতি তাদের জন্য অনিবার্য ছিল।"
আপাতত এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত এবং কোটি কোটি টাকার এই লেনদেন ঠিক কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে ধৃত প্রাক্তন বিধায়ক ও তাঁর সহযোগীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা করতে চাইছে মহিষাদল থানার পুলিশ। তিলকের দাবি মেনে আদালত তাঁকে স্বস্তি দেয়, নাকি তদন্তের গভীরে গিয়ে পুলিশ নতুন কোনো তথ্য সামনে আনে— এখন সেটাই দেখার।

No comments