Newz Bangla, কলকাতা : ফের বিতর্কের কেন্দ্রে শিক্ষকদের শিক্ষা-বহির্ভূত কাজে যুক্ত করার নির্দেশ। এসআইআর (SIR) পর্বের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শিক্ষকদের কাঁধে চাপতে চলেছে জনগণনা বা 'সেন্সাস'-এর অতিরিক্ত বোঝা। যদিও প্রশাসনিক …
Newz Bangla, কলকাতা : ফের বিতর্কের কেন্দ্রে শিক্ষকদের শিক্ষা-বহির্ভূত কাজে যুক্ত করার নির্দেশ। এসআইআর (SIR) পর্বের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শিক্ষকদের কাঁধে চাপতে চলেছে জনগণনা বা 'সেন্সাস'-এর অতিরিক্ত বোঝা। যদিও প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাদের দাবি, এটিকে ‘বোঝা’ নয়, বরং বলা উচিত ‘দায়িত্ব’।
কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে বলে খবর। সেখানে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে— যেসব শিক্ষক এই সেন্সাসের দায়িত্ব এড়িয়ে যাবেন বা যোগ দেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে। এমনকি হতে পারে জেল এবং জরিমানা, দুটিই!
উল্লেখ্য, এর আগে কমিশন যখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের যুক্ত করেছিল, তা নিয়ে শিক্ষকমহলের একটি বড় অংশ চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। অনেকেই এই কাজে নামতে চাননি। তবে কমিশনের কঠোর নির্দেশিকার মুখে শেষ পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য হন তাঁরা। এবার শুরু হতে চলা সেন্সাসের কাজেও শিক্ষকদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত সেই ক্ষোভে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।
শিক্ষকদের এই ক্ষোভের মাঝে মুখ খুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তাঁর বক্তব্য, সেন্সাসের মতো একটি বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য প্রচুর সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হয়। নির্দিষ্ট নিয়ম মেরেই এই কাজ পরিচালিত হয় এবং শিক্ষকদের এতে অংশ নেওয়াটা দস্তুর। তবে শারীরিক অসুস্থতার মতো বিশেষ মানবিক ক্ষেত্রগুলিতে কিছু ছাড় দেওয়া যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, "যদি কোনও ক্যানসার আক্রান্ত রোগী থাকেন, তবে তাঁকে ছাড় দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু অহেতুক বা আবদারের জায়গা কিন্তু থাকছে না।"
তবে শিক্ষকদের এভাবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেন্সাসের কাজ করার নির্দেশ আসায় স্কুলের পঠনপাঠন কিছুটা হলেও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন অবশ্য মানছেন যে এই ধরণের কাজের ফলে স্কুলগুলিতে শিক্ষাদানে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবুও নিয়মের বাধ্যবাধকতায় সেন্সাসের এই নতুন 'দায়িত্ব' যে শিক্ষকদের পালন করতেই হচ্ছে, তা এক প্রকার পরিষ্কার।

No comments