Mahishadal : পরাজয়ের পরেই ঘনিয়েছিল মেঘ, চাকরি-প্রতারণা মামলায় মাঝরাতে গ্রেফতার মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Mahishadal : পরাজয়ের পরেই ঘনিয়েছিল মেঘ, চাকরি-প্রতারণা মামলায় মাঝরাতে গ্রেফতার মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী !

নিউজবাংলা, মহিষাদল: গভীর রাতে নাটকীয় মোড় পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে। চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন মহিষাদলের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী। বুধবার রাতে মহিষাদল থানার পুলিশ এবং কেন্…

 


নিউজবাংলা, মহিষাদল: গভীর রাতে নাটকীয় মোড় পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে। চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন মহিষাদলের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী। বুধবার রাতে মহিষাদল থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তুলে নিয়ে যায় বলে খবর। এর আগে তিলক-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা ছবিলাল মাইতিকেও একই অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মহিষাদলের বিজেপি প্রার্থী সুভাষচন্দ্র পাঁজার কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন তিলক। নির্বাচনী হারের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে দলের অন্দরে ও বাইরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। বিশেষ করে বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীদের লাগাতার চাপের মুখে পড়ে গত বেশ কিছুদিন ধরে কার্যত ‘গা ঢাকা’ দিয়েছিলেন এই প্রাক্তন বিধায়ক।

​গোপন সূত্রে খবর, তারপরই অভিযান

​বুধবার রাতে তিলক চক্রবর্তী চুপিচুপি নিজের বাড়িতে ফিরেছেন— গোপন সূত্রে এই খবর পৌঁছায় মহিষাদল থানার পুলিশের কাছে। আর দেরি করেনি প্রশাসন। রাত প্রায় ১১টা নাগাদ তিনটি গাড়ি বোঝাই পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আচমকাই ঘিরে ফেলে প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি। এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বাড়ি থেকে তিলককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় নিয়ে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও বয়ান খতিয়ে দেখার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে বলে সূত্রের খবর।

​দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও প্রতিপত্তি

​তিলক চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবন বেশ দীর্ঘ। মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর উত্থান। এরপর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি হন। রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বাড়িয়ে শেষমেশ মহিষাদলের বিধায়ক পদও পান তিনি।

অভিযোগের তির: এলাকার মানুষের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই দীর্ঘ মেয়াদে নিজের পদের অপব্যবহার করে বিপুল সম্পত্তি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়িয়েছেন তিলক। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিলেন তিনি।

​তিলক চক্রবর্তীর এই গ্রেফতারির পর হলদিয়া মহকুমায় তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, "আইন নিজের পথেই চলছে। ক্ষমতার দম্ভে সাধারণ মানুষের টাকা লুট করলে এই পরিণতিই অনিবার্য।" এই ঘটনায় আর কে কে যুক্ত, তা জানতে ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ।


No comments