আরও কড়া হচ্ছে ভেরিফিকেশান, নতুন ঘোষণায় হতাশায় অন্নপূর্ণার আবেদনকারীরা, কারা পাবেন, কারা পাবেন না দীর্ঘ হল সেই তালিকা
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনা? এই প্রশ্ন এবং দ্বন্দ্ব গত দু’মাস ধরেই রাজ্যের আম জনতার নি…
আরও কড়া হচ্ছে ভেরিফিকেশান, নতুন ঘোষণায় হতাশায় অন্নপূর্ণার আবেদনকারীরা, কারা পাবেন, কারা পাবেন না দীর্ঘ হল সেই তালিকা
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনা? এই প্রশ্ন এবং দ্বন্দ্ব গত দু’মাস ধরেই রাজ্যের আম জনতার নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন কিছু শর্ত বা নিয়মাবলির মাধ্যমে সেই ‘সংশয়’ই স্পষ্ট করে দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বুধবার এই সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা বৈঠকের কার্যবিবরণী বা মিনিটস-এর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে থাকা শর্তই শুধু শেষ কথা নয়। আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, পার্শ্বশিক্ষক, সিভিক ভলান্টিয়াররাও এবার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না।
মূল বিজ্ঞপ্তিতে যদিও বলা হয়েছিল, কোনো মহিলা সরকারি চাকরি করলে বা আয়কর দিলে এই সুবিধা থেকে वंचित থাকবেন। তবে বর্তমান নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, অঙ্গনওয়াড়ি বা সিভিকের মতো কর্মীদেরও এই ছাতার তলায় নিয়ে আসা যাবে না। সরকারি খাত থেকে সামান্যতম সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পেলেই তিনি আর অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। এখানেই শেষ নয়, আবেদনকারীর পরিবারের কেউ সরকারি চাকরি করলে, বা পেনশনভোগী হলেও তাদের আরজি বাতিল হবে। পরিবারে কেউ আয়করদাতা থাকলেও সেই মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকবে না।
রাজ্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে, প্রকৃত প্রান্তিক এবং অভাবী পরিবারের মহিলারাই যেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল বিক্ষোভের জেরে ফের যাচাইয়ের মুখে পড়া ২৮ লক্ষ আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ। কারণ, যে সব ‘শর্তে’র জন্য তাঁদের নাম তালিকায় ঢোকেনি, সেগুলিই এই দফায় নিয়মের আওতায় চলে আসছে।
সরকার জানিয়ে দিয়েছে, আবেদনকারীর পরিবারের কারও জিএসটি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকলে, বাড়িতে তিনটি পাকা ঘর থাকলে এবং ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমির মালিক হলেও তাঁর বাড়ি গিয়ে যাচাই হবে। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, অনেক আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই ভুলবশত টাকা চলে গিয়েছিল, এখন সেই টাকা ফেরত চাওয়া হচ্ছে। রাজ্যে বর্তমানে আশাকর্মীর সংখ্যা গ্রাম এবং শহর মিলিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার। পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন বলেন, ‘রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে মেয়েরা মর্মাহত, ক্ষুব্ধ।"
তিনি জানান, "আগের সরকারের সময়ে আমরা দেড় হাজার টাকা করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতাম। গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন জেলা থেকে মেয়েদের ফোন পাচ্ছিলাম। বিডিও অফিস থেকে বলা হচ্ছিল কাগজে লিখে দিতে যে আমরা টাকা নেব না। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
তবে আটকে থাকা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের সময়মতো আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ‘এডিট অপশন’ নিয়ে এসেছে রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতর। ফলে যে আবেদনকারীদের নাম বা তথ্য সংক্রান্ত সংশোধনের প্রয়োজন, তাঁরা জেলা আধিকারিকদের সহযোগিতায় পোর্টালে ঢুকে ‘এডিট’ করতে পারবেন।
ভেরিফিকেশনের গতি বাড়াতে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনে সিডিপিও, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকা, সুপারভাইজার এবং আগ্রহী বিএলওদের কাজে লাগাতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যোগ্যদের তালিকাভুক্তির কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

No comments