Newz Bangla, কলকাতা : "ওযাকরেছে, তারফলপেয়েছে।ভালইহয়েছে।আমিওরদেহআনতেযাবনা।দেখতেওচাইনা।" — বুধবারভোরেযখনপুলিশএসেছেলেরমৃত্যুরখবরদিল, তখনএকলহমায়যেনপাথরহয়েগেলেনমা।চোখেজলনয়, বরংএকবুকঘৃণাআরচরমঅস্বস্তিনিয়েসাফজানিয়েদিলেন, কুলাঙ্…
Newz Bangla, কলকাতা : "ও যা করেছে,
তার ফল পেয়েছে। ভালই
হয়েছে। আমি ওর দেহ
আনতে যাব না। দেখতেও
চাই না।" — বুধবার ভোরে যখন পুলিশ
এসে ছেলের মৃত্যুর খবর দিল, তখন
এক লহমায় যেন পাথর হয়ে
গেলেন মা। চোখে জল
নয়, বরং এক বুক
ঘৃণা আর চরম অস্বস্তি
নিয়ে সাফ জানিয়ে দিলেন,
কুলাঙ্গার সন্তানের মৃতদেহ ছুঁয়েও দেখবেন না তিনি। বারুইপুরে
নাবালিকা গণধর্ষণ এবং খুনে অন্যতম
মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর, এভাবেই নিজের
গর্ভজাত সন্তানের দিক থেকে মুখ
ফিরিয়ে নিলেন মা সন্ধ্যা মণ্ডল।
মঙ্গলবার
রাতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে প্রভাসের। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পুনর্নির্মাণের
জন্য ওই রাতেই প্রভাসকে
অপরাধস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেখানে গিয়ে পুলিশের নজর
এড়িয়ে এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র
ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা
করেন তিনি। পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড
গুলিও চালান বলে দাবি। এর
পরই আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ।
রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রভাস। হাসপাতালে
নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে
মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বুধবার সকাল থেকেই শুরু
হয়েছে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত।
‘কুলাঙ্গার’
ছেলের শেষটুকুও ছুঁতে নারাজ মা
গত
রবিবার পুলিশ গ্রেফতার করেছিল প্রভাসকে। তাকে জেরা করেই
উঠে আসে আরও তিন
সঙ্গী— আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লার
নাম। কিন্তু প্রভাসের পাপের যে এমন পরিণতি
হবে, তা হয়তো ভাবেনি
তার পরিবার। বুধবার ভোরে যখন বারুইপুরের
জয়নগরের ওই হতদরিদ্র পরিবারটির
দরজায় কড়া নাড়ে পুলিশ,
তখন কেঁপে উঠেছিল মায়ের বুক। কিন্তু অপরাধের
নৃশংসতা সেই মাতৃত্বের টানকে
মুহূর্তে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে।
সন্ধ্যাদেবী
নিজেই জানান আজকের ভোরবেলার বিবরণ। তাঁর কথায়,
"পুলিশ
এসে জিজ্ঞাসা করল, আপনার ছেলের
নাম প্রভাস মণ্ডল? আমি বললাম হ্যাঁ।
তার পর বলল, আপনার
ছেলে মারা গেছে। আপনি
দেখতে চান?"
পুলিশ
প্রভাসের আইডেন্টিটি কার্ড বা পরিচয়পত্রও চেয়েছিল
পরিবারের কাছে। কিন্তু এক মুহূর্তও দ্বিধা
করেননি সন্ধ্যাদেবী। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "আমি ওর দেহ
আনতে যাব না। ওকে
দেখতে চাই না। আমাদের
বাড়ি থেকে কেউ ওর
দেহ আনতে যাবে না।"
‘মায়ের
কথা শুনত না, নেশা করত’
নাবালিকার
ওপর পাশবিক অত্যাচার এবং খুনের ঘটনায়
যখন থেকে প্রভাসের নাম
জড়িয়েছে, তখন থেকেই লোকসমাজে
মুখ দেখানোর উপায় ছিল না
পরিবারের। প্রতিবেশীদের ঘৃণা আর নিজেদের
অপরাধবোধে কুঁকড়ে ছিলেন মা।
ছেলের
এই পরিণতির জন্য তার অবাধ্যতা
এবং নেশার আসক্তিকেই দায়ী করেছেন সন্ধ্যাদেবী।
ঘরের দাওয়ায় বসে শূন্য দৃষ্টিতে
তিনি বলেন, "মায়ের কথা কোনোদিন শুনত
না। সারাদিন নেশা করত।"
প্রভাসের
স্ত্রী কি জানিয়েছে :
ও দোষ করেছে, তারজন্য গুলি খেয়েছে।
ও অনেক অত্যাচার করেছে। আমার বিয়ের পর থেকেই অনেক অত্যাচার করত। যেমন কাজ করেছে
তারজন্যই গুলি খেয়েছে। আমরা ওকে অপরাধী হিসেবে মেনে নিয়েছি।
আইন
নিজের পথে চলেছে, নাকি
পুলিশের তত্ত্ব মেনে এনকাউন্টার— এই
আইনি চুলচেরা বিশ্লেষণের ঊর্ধ্বে গিয়ে বারুইপুরের এই
ঘটনা এক অন্য সামাজিক
বাস্তবতার দলিল হয়ে রইল।
যেখানে এক নাবালিকার নির্মম
মৃত্যুর বিচার খুঁজতে গিয়ে, নিজের জন্ম দেওয়া সন্তানের
লাশের দিক থেকেও চরম
ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিলেন
এক জননী।

No comments