Newz Bangla, মহিষাদল: রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (প্রাক্তন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন নিয়ে এবার বিস্ফোরক শাসকদলের নেতা। তবে তা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নয়, একেবারে সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মহিষা…
Newz Bangla, মহিষাদল: রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (প্রাক্তন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন নিয়ে এবার বিস্ফোরক শাসকদলের নেতা। তবে তা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নয়, একেবারে সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বিজেপির রঘুনাথ পণ্ডা।
তাঁর এই প্রকাশ্য অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে ক্ষোভ ও অভিযোগ জমা হচ্ছিল, বিজেপির এই দাপুটে নেতার ফেসবুক পোস্টেই তা স্পষ্ট সিলমোহর পেল।
বিজেপি নেতার এই ফেসবুক বার্তা একদিকে যেমন প্রশাসনের অন্দরের সমন্বয়হীনতাকে কাঠগড়ায় তুলেছে, ঠিক তেমনই বুথ স্তরের কর্মীদের চরম অস্বস্তির মুখে ফেলে দিয়েছে।
‘কোটা’র রাজনীতি ও চরম ভোগান্তি
রঘুনাথবাবুর মূল অভিযোগ প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ এবং প্রাপক তালিকা তৈরি নিয়ে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের নির্বাচনী সংকল্প পত্র অনুযায়ী, সমস্ত যোগ্য প্রাপকেরই (বিদেশি এবং পুরুষ বাদে) এই সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। প্রাথমিক ভাবে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের মারফত নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ না করিয়ে, ‘কোটা’র মাধ্যমে বেছে বেছে টাকা পাঠানো হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এখানেই শেষ নয়, রঘুনাথবাবু সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির চিত্রও তুলে ধরেছেন:
- ফর্ম পূরণের নামে প্রহসন: বহু পরিবার ১২ পাতার ফর্ম জেরক্স করে, সমস্ত নথিপত্র সহ তা পূরণ করে গ্রাম পঞ্চায়েত বা বিডিও অফিসে জমা দিয়েছিলেন। অথচ অভিযোগ, সেই সমস্ত ফর্ম এখনো দফতরেই মজুত পড়ে রয়েছে।
- অনলাইনের গোলকধাঁধা: পরবর্তীতে পোর্টাল খুলতেই নামমাত্র টাকার বিনিময়ে অতি দ্রুত অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব হয়েছে। বিজেপি নেতার প্রশ্ন, এই অনলাইন ব্যবস্থা প্রথম থেকে করা হলে সাধারণ মানুষকে কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হলো?
- বিনা তদন্তে সুবিধা: একদল ‘ভাগ্যবান’ পরিবার কোনো আবেদন বা তদন্ত ছাড়াই কোটার সুবাদে সুবিধা পেয়ে গেলেন, অথচ যাঁরা নিয়ম মেনে অর্থ ও শ্রম খরচ করে লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দিলেন, তাঁদের অনেকের কপালেই জুটল বিপত্তি।
নিচুতলার কর্মীদের নাভিশ্বাস, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
এই বৈষম্যমূলক নীতির জেরে এখন নিচুতলার রাজনৈতিক কর্মীদের সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মহিষাদলের এই বিরোধী দলনেতা। তিনি ক্ষোভের সুরে জানান, এলাকার মানুষের ক্ষোভের কোনো সদুত্তর বুথ, অঞ্চল বা ব্লক স্তরের কর্মীদের কাছে নেই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষের ‘অকথ্য গালিগালাজ’ শুনতে হচ্ছে তাঁদের।
"এই অবস্থা শুধু আমার নয়, আমার মতো অনেকেরই হয়েছে,"— সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন রঘুনাথ পণ্ডা।
প্রশাসনের এই চরম উদাসীনতা এবং বণ্টন দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে পরিশেষে সম্মানীয় সকল প্রশাসনিক প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। এখন দেখার, বিজেপি নেতার এই ফেসবুক ‘বোমা’র পর প্রশাসন বা শাসকদলের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে।
নিজের ফেসবুক পেজে কি লিখেছেন রঘুনাথ?


No comments