Mahishadal : অহেতুক আড্ডা নয়’! মহিষাদল রাজবাড়িতে পুলিশি তাড়া খেয়ে উঠল প্রশ্ন, নেটপাড়ায় ‘নীতি পুলিশি’র জুজু ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Mahishadal : অহেতুক আড্ডা নয়’! মহিষাদল রাজবাড়িতে পুলিশি তাড়া খেয়ে উঠল প্রশ্ন, নেটপাড়ায় ‘নীতি পুলিশি’র জুজু !

নিজস্ব সংবাদদাতা, হলদিয়া: ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজবাড়ি চত্বর ইদানীং এক ভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। রাজবাড়ি চত্বরকে নেশামুক্ত এবং নিরাপদ রাখতে একঝাঁক কড়া নি…

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, হলদিয়া: ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজবাড়ি চত্বর ইদানীং এক ভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। রাজবাড়ি চত্বরকে নেশামুক্ত এবং নিরাপদ রাখতে একঝাঁক কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ। অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে রাজপরিবারের সদস্যদের আবেদনের ভিত্তিতেই সেখানে শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী সমেত মহিষাদল থানার পুলিশি অভিযান। তবে এই অতিসক্রিয়তার মাঝে দিনের আলোয় সাধারণ মানুষ বা তরুণ-তরুণীদের বসে গল্প করা বা আড্ডা দেওয়ার ওপর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা জারি করা নিয়ে জনমানসে তীব্র ক্ষোভ ও জলঘোলা শুরু হয়েছে। নেটপাড়ায় ইতিমধ্যেই পুলিশের এই ভূমিকাকে ‘নীতি পুলিশি’ (Moral Policing) বলে দেগে দেওয়া হয়েছে।

​সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঘিরে এই বিতর্কের সূত্রপাত। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর এক পুলিশকর্মী সাহেবদিঘির পাড়ে বসে থাকা এক তরুণ-তরুণীকে উঠে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। ওই পুলিশকর্মীকে স্পষ্ট বলতে শোনা যায়, "অহেতুক আড্ডা দেওয়া যাবে না।" পুলিশের তাড়া খেয়ে ওই তরুণ-তরুণী কোনো প্রতিবাদ না করেই সেখান থেকে চলে যান। এই ভিডিওটি সামনে আসতেই একাংশের নাগরিক ও পর্যটকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, একটি মুক্ত ঐতিহ্যবাহী পর্যটন ক্ষেত্রে দিনের বেলায় শান্ত পরিবেশে বসে সাধারণ আড্ডা দেওয়া বা গল্প করা কতটা আইন-বিরুদ্ধ?

​১৫৫৭ খ্রিস্টাব্দে জনার্দন উপাধ্যায়ের হাত ধরে মহিষাদল রাজবংশের পত্তন হয়েছিল। পরবর্তীকালে ইংরেজ আমলে রাজা সতীপ্রসাদ গর্গের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠে নয়নাভিরাম ‘ফুলবাগ প্যালেস’, যা আজ মহিষাদল রাজবাড়ি নামে সমধিক পরিচিত। বিশাল এই চত্বরে রয়েছে ফুলবাগ প্যালেস, রাজবাড়ি মিউজিয়াম, শ্রীশ্রী গোপালজিউ মন্দির, আমবাগান ও ঐতিহ্যবাহী সাহেবদিঘি। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু পর্যটক এখানে আসেন। রাজবাড়ির একটি অংশ বর্তমানে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের (HDA) আওতাধীন। বইমেলা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নিত্যনতুন রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠায় এখানে সারাবছরই ভিড় লেগে থাকে।

​রাজপরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে মিউজিয়ামের বাইরে, বিশেষ করে আমবাগান ও মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সাইলেন্সরবিহীন বাইকের দৌরাত্ম্য, মাদকের আসর এবং অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কিছু অসামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর ফলে সাধারণ পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চূড়ান্ত অস্বস্তির মধ্যে পড়ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজবাড়ির বর্তমান সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ ও রুদ্রপ্রসাদ গর্গ একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসে মহিষাদল থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে নিয়মিত টহল শুরু হয়।

​পুলিশের এই অভিযানে রাজপরিবার সম্পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। রাজবাড়ির সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট জানান, "পুলিশের ভূমিকায় আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এলাকার পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় নিয়মিত পুলিশি টহল অত্যন্ত দরকার।" তবে রাজপরিবার সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধের পক্ষে সওয়াল করলেও, সাধারণ দর্শনার্থীদের হেনস্থা করার পক্ষে নয় বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।

​মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বিজেপির রঘুনাথ পণ্ডা এই প্রসঙ্গে প্রশাসনের অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানান, "ঐতিহ্যক্ষেত্রে সবাই স্বচ্ছন্দে ঘুরতে পারেন। এটা দেখা প্রশাসনের দায়িত্ব। রাজবাড়ি থেকে অভিযোগ এসেছে বলেই পুলিশি টহল চলছে, তা ইতিবাচক। তবে ভদ্রভাবে বসে থাকা কোনো নারী-পুরুষকে অহেতুক বাধা দেওয়া বা তাড়িয়ে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। পুলিশের উচিত সাধারণ মানুষকে হেনস্থা না করে প্রকৃত অসামাজিক কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।"

​অন্যদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অতিসক্রিয়তার অভিযোগ নিয়ে মহিষাদল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেখানে কোনো নীতি পুলিশি চালানো হচ্ছে না, বরং একটি সচেতনতামূলক প্রচার ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাজবাড়ি চত্বর একটি প্রথম সারির পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে সুরক্ষার স্বার্থেই পুলিশি নজরদারি রাখা বাধ্যতামূলক। অসামাজিক কাজের সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়ার পরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং ওই তরুণ-তরুণীকে কেবল সচেতন করতেই সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছিল।

​আপাতত ঐতিহ্যবাহী এই প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের অবাধ বিচরণের স্বাধীনতার ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকে, সেটাই এখন দেখার। স্থানীয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের দাবি, নেশার আড্ডা আর বখাটেদের দৌরাত্ম্য রুখতে পুলিশ কঠোর হোক, কিন্তু তার বলি যেন সাধারণ পর্যটকদের সুস্থ বিনোদন বা স্বাভাবিক আড্ডা না হয়।


No comments