নিউজবাংলা, ময়না: ফের তপ্ত পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না। এবার খোদ পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’র বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বিতর্কে জড়ালেন স্থানীয় (Purba Medinipur) বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্ডা। এক প্রকাশ্য জনসভা থেক…
নিউজবাংলা, ময়না: ফের তপ্ত পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না। এবার খোদ পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’র বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বিতর্কে জড়ালেন স্থানীয় (Purba Medinipur) বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্ডা। এক প্রকাশ্য জনসভা থেকে পুলিশ সুপার (এসপি) এমনকি সরাসরি কালীঘাটকেও নিশানা করেছেন তিনি। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এবার বিধায়কের বিরুদ্ধে সুয়োমোটো মামলা দায়ের করল পুলিশ।
সম্প্রতি ময়নায় একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজাজ হারান অশোক দিন্ডা। মৎস্যজীবীদের সমস্যা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এলাকায় পুলিশের তোলাবাজি চরম আকার নিয়েছে। দিন্ডা বলেন, “প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই দুটো স্কুটি নিয়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে। মাছের গাড়ি পিছু ১০০-২০০ টাকা করে তোলা হয়। আমার কাছে সব ভিডিও রেকর্ড আছে।”
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। টাকার ভাগ কোথায় যায়, তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করে বিধায়ক বলেন, “মৎস্যজীবীরা যে টাকা দিচ্ছেন, তার ৫০ শতাংশ থাকছে থানায়। বাকিটা যাচ্ছে এসপি-র কাছে। সেখান থেকে একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে হরিশ মুখার্জি রোডে, কালীঘাটের টালির চালায়। সব তথ্যপ্রমাণ ওই ‘সবুজ ডায়েরি’তে আছে।” মৎস্যজীবীদের উদ্দেশ্যে তাঁর নিদান, “এক টাকাও দেবেন না। পুলিশ গাড়ি আটকালে আমি বুঝে নেব।”
বিধায়কের এই মন্তব্যের পরেই নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে এই অভিযোগকে কড়া ভাষায় খণ্ডন করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের সম্মানহানি করার অভিযোগে বিধায়কের বিরুদ্ধে সুয়োমোটো মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, “একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির থেকে এ ধরনের মন্তব্য কাম্য নয়। আমাদের সম্মানটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।” এই কারনেই ১৭৯ বিএনএস (BNS) ধারায় অশোক দিন্ডাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।পুলিশ সুপার বলেন, “উনি আইনজীবীর মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পেছানোর আবেদন করেছেন। তবে আমরা আইন মেনেই সব ব্যবস্থা নেব।”
পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই ময়না বারবার শিরোনামে এসেছে। এবার পুলিশ বনাম বিধায়কের এই সংঘাত জেলা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই সত্যিটা সামনে আসায় মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের পাল্টা কটাক্ষ, প্রমাণ ছাড়াই ভিত্তিহীন অভিযোগ করে সস্তা প্রচার পেতে চাইছেন বিধায়ক।
আপাতত পুলিশের তলবে দিন্ডা কবে হাজিরা দেন এবং ওই ‘ভিডিও রেকর্ড’ বা ‘সবুজ ডায়েরি’র রহস্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
#MoynaPolitics #AshokDinda #WestBengalPolice #BreakingNewsWestBengal #PurbaMedinipur #NewzBangla
No comments