নিজস্ব সংবাদদাতা, তমলুক: ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তিকরণে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর প্রশাসনের ডাকে সাড়া দেননি কয়েক হাজার আবেদনকারী। দফায় দফায় নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেননি পূর্ব মেদিনীপুরের ২৭…
নিজস্ব সংবাদদাতা, তমলুক: ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তিকরণে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর প্রশাসনের ডাকে সাড়া দেননি কয়েক হাজার আবেদনকারী। দফায় দফায় নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেননি পূর্ব মেদিনীপুরের ২৭১৯ জন ভোটার। এমনকি শুনানির দিনগুলিতেও তাঁদের দেখা মেলেনি কেন্দ্রে। ফলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে এই ২৭১৯ জনের নাম পাকাপাকিভাবে বাদ পড়তে চলেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে সোমবার এই খবর জানানো হয়েছে।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি (ছবির তথ্য অনুযায়ী ইউরিস ঋষিন ইসমাইল) জানান, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে এই ভোটারদের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) ভোটারদের বাড়িতে গিয়েও তাঁদের সন্ধান পাননি। জেলা প্রশাসনের দাবি, এই ২৭১৯ জনের তালিকায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন মৃত ভোটার থাকতে পারেন। বাকিদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
কী এই অসঙ্গতি?
ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ‘এসআইআর’ (Special Inquiry Report) কাজ শুরু হয়েছিল। মূলত সাতটি কারণে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নোটিস পাঠানো হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- সন্তানের বয়সের সঙ্গে বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক ১৫ বছরের কম হওয়া।
- একই ব্যক্তির সঙ্গে ৬ বা তার বেশি ভোটারের সংযোগ থাকা।
- আবেদনকারী এবং ২০০২ সালের তালিকার তথ্যের মধ্যে বানান বা তথ্যের গরমিল।
বিধানসভা ভিত্তিক পরিসংখ্যান
জেলার ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রেই এই নিখোঁজ ভোটারদের তালিকা তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
- হলদিয়া: ৩৭৮ জন
- মহিষাদল: ১৪২ জন
- কাঁথি উত্তর: ২২২ জন
- কাঁথি দক্ষিণ: ১৩৭ জন
- তমলুক: ৬৫ জন
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় পূর্ব মেদিনীপুরের ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৪১ লক্ষ ৪১ হাজার ৪১২ জন। নতুন করে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কবলে পড়া ভোটারদের গতিবিধি নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। প্রশ্ন উঠছে, শুরুতে ইনুমারেসন ফর্ম জমা পড়লেও শুনানির সময় এই বিপুল সংখ্যক ভোটার কেন বেপাত্তা হলেন? বিষয়টি বর্তমানে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত অবজার্ভারের কড়া নজরে রয়েছে।

No comments