নিউজবাংলা, নন্দীগ্রাম : ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চূড়ান্ত হয়রানি ও প্রাণের ঝুঁকির অভিযোগ তুলে এবার বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের বিএলও-রা (বুথ লেভেল অফিসার)। সোমবার এই ব্লকের বিডিও-র কাছে গিয়ে গণ ইস্তফার হুমকি দি…
নিউজবাংলা, নন্দীগ্রাম : ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চূড়ান্ত হয়রানি ও প্রাণের ঝুঁকির অভিযোগ তুলে এবার বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের বিএলও-রা (বুথ লেভেল অফিসার)। সোমবার এই ব্লকের বিডিও-র কাছে গিয়ে গণ ইস্তফার হুমকি দিলেন (WB SIR 2026) কয়েক ডজন বিএলও। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, অমানবিক কাজের চাপ এবং প্রতিদিন নিয়ম বদলে বিড়ম্বনায় পড়ছেন তাঁরা। পরিস্থিতি না বদলালে নন্দীগ্রাম ২ নম্বরের পর এবার ১ নম্বর ব্লকের কাজও শিকেয় ওঠার উপক্রম হয়েছে।
আন্দোলনকারী বিএলও-দের অভিযোগ, কোনো লিখিত নির্দেশ ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে কাজ চলছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলোতে ভোটারদের ঘনঘন ‘হিয়ারিং’-এ ডাকা হচ্ছে। কোথাও কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে ৬ জনের বেশি সন্তান থাকা, আবার কোথাও অন্য কোনো অজুহাত। বিএলও-দের প্রশ্ন, একজন মানুষের নির্দিষ্ট নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও স্রেফ সন্তানের সংখ্যার ভিত্তিতে কেন তাঁকে বারবার ডেকে হয়রান করা হচ্ছে? অথচ এই হিয়ারিং সম্পন্ন হওয়ার পরও ভোটারদের হাতে কোনো সরকারি প্রমাণপত্র বা রসিদ তুলে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিন বিডিও অফিসের সামনে বিএলও-দের চোখেমুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ। এক বিএলও সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "গ্রামের মানুষ ইতিমধ্যে আমাদের ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। সরকারি নিয়মের গেরোয় পড়ে সাধারণ মানুষ যখন হয়রান হচ্ছেন, তার রাগ এসে পড়ছে আমাদের ওপর। যেকোনো সময় আমাদের প্রাণহানি ঘটতে পারে। কাজ করার মতো পরিবেশ নেই।"
তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
- ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সরলীকরণ করতে হবে।
- প্রতিদিন নিয়ম বদল করা বন্ধ করতে হবে।
- হিয়ারিং-এর নামে সাধারণ মানুষের অহেতুক হয়রানি রুখতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, জটিল প্রক্রিয়ার চাপে পড়ে যদি কোনো ‘জেনুইন’ ভোটারের নাম বাদ চলে যায়, তবে তার দায় বিএলও-দের ওপর চাপিয়ে দেবে জনতা। ইতিপূর্বে নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের কর্মীরাও একই ইস্যুতে ডেপুটেশন দিয়েছিলেন। এবার নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকেও সেই একই বিদ্রোহের সুর।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বিএলও-দের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থমকে যাওয়ায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে জেলা প্রশাসন। এখন দেখার, বিএলও-দের এই ‘গণ ইস্তফা’র হুঁশিয়ারির পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়া সরল করতে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।

No comments