নিউজবাংলা, মহিষাদল: পৌষের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার আমেজ গায়ে মেখলেই এবার মাঠ মাতাতে নামছেন মহিষাদলের ক্রীড়াপ্রেমীরা। আগামী ৯ ও ১০ জানুয়ারি মহিষাদলে আয়োজিত হতে চলেছে পঞ্চম বর্ষের ‘এমএলএ কাপ’। (MLA Cup Mahishadal) দু’দিনের এই মেগা টুর্ন…
নিউজবাংলা, মহিষাদল: পৌষের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার আমেজ গায়ে মেখলেই এবার মাঠ মাতাতে নামছেন মহিষাদলের ক্রীড়াপ্রেমীরা। আগামী ৯ ও ১০ জানুয়ারি মহিষাদলে আয়োজিত হতে চলেছে পঞ্চম বর্ষের ‘এমএলএ কাপ’। (MLA Cup Mahishadal) দু’দিনের এই মেগা টুর্নামেন্টে একদিকে যেমন থাকবে চার-ছক্কার ফুলঝুরি, তেমনই থাকবে সবুজ গালিচায় ফুটবলের লড়াই। ক্রিকেটের ব্যাটে বা ফুটবলের জাদুতে কারা বাজিমাত করবে, তা নিয়ে এখন থেকেই চড়ছে উত্তেজনার পারদ।
আগামী ৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকালে এই ক্রীড়া যজ্ঞের সূচনা হবে। টুর্নামেন্টের প্রথম দিনটি উৎসর্গ করা হয়েছে ক্রিকেটের জন্য। আয়োজক সূত্রে খবর, মোট ৮টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে ম্যাচ চলবে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। ৬ থেকে ৮ ওভারের এই ফরম্যাটে খেলা হবে। তবে রাতের দিকে দৃশ্যমানতা কমলে ওভার সংখ্যা কিছুটা কমানো হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। খেলা শেষে দর্শকদের জন্য থাকছে বিশেষ চমক— এক মনোজ্ঞ ‘গ্রিন বাজি’ বা পরিবেশবান্ধব বাজি প্রদর্শনী।
১০ জানুয়ারি, শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে থাকছে ফুটবলের লড়াই। তবে মূল আসর শুরুর আগে ফুটবল প্রেমীদের বাড়তি পাওনা হিসেবে থাকছে মহিলাদের দু’টি দলের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। দুপুর ৩টে থেকে এই ম্যাচটি শুরু হবে। এরপরই শুরু হবে মূল ৮টি দলের ফুটবল প্রতিযোগিতা। ক্রিকেট এবং ফুটবল— দুই বিভাগেই জয়ী ও বিজিত দলের জন্য থাকছে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার।
মহিষাদলের বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কাপ এখন এলাকার অন্যতম প্রধান ক্রীড়া উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিধায়ক জানান, “এলাকার ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজের মধ্যে খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতেই এই উদ্যোগ। খেলাধূলো শুধু শারীরিক নয়, মানসিক বিকাশেও অপরিহার্য। পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সংযোগ ও মতবিনিময়ের একটি বড় মাধ্যম হলো খেলার মাঠ। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতি বছর এই আয়োজন করা হয়।”
আয়োজক কমিটির অন্যতম কর্ণধার ছবিলাল মাইতি জানিয়েছেন, খেলার মানে কোনও আপস করা হচ্ছে না। ফুটবলে ফিফা (FIFA) এবং ক্রিকেটে আইসিসি-র (ICC) নির্দেশিকা মেনেই ম্যাচগুলি পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, “স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রবিবার সব দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে ক্রীড়াসূচী বা ফিক্সচার তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি, গত বছরের মতো এবারও মানুষ দু’দিন ধরে এই আসর উপভোগ করবেন।”
এখন অপেক্ষা কেবল ৯ জানুয়ারির। মহিষাদলের রাজবাড়ি সংলগ্ন মাঠ বা স্থানীয় স্টেডিয়াম (নির্দিষ্ট মাঠের নাম যোগ করতে পারেন) এখন প্রস্তুত হচ্ছে খেলোয়াড়দের লড়াই আর দর্শকদের উন্মাদনা সাক্ষী রাখতে।

No comments