নিউজবাংলা, এগরা : গভীর রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল এগরার চাটলা গ্রামে। দোকান বন্ধ করে ফেরার পথে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও ভোজালি নিয়ে চড়াও হল একদল (Purba Medinipur) দুষ্কৃতী। লুঠ করা হলো ব্যাগ ভর্তি সোনা ও নগদ টাকা। তবে …
নিউজবাংলা, এগরা : গভীর রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল এগরার চাটলা গ্রামে। দোকান বন্ধ করে ফেরার পথে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও ভোজালি নিয়ে চড়াও হল একদল (Purba Medinipur) দুষ্কৃতী। লুঠ করা হলো ব্যাগ ভর্তি সোনা ও নগদ টাকা। তবে শেষরক্ষা হলো না। ব্যবসায়ীর তৎপরতা ও গ্রামবাসীদের সাহসিকতায় হাতেনাতে ধরা পড়ল ছিনতাইকারীরা। এলাকা জুড়ে ঘনীভূত হচ্ছে বড়সড় কোনও ডাকাত দলের সক্রিয়তার সন্দেহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাটলা বাজারের ‘গিরিবালা জুয়েলার্স’-এর কর্ণধার যীশু কামিল্যা প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতেও দোকান বন্ধ করে মালপত্র নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। অভিযোগ, নির্জন রাস্তায় আগে থেকেই ওত পেতে ছিল একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী। যীশু বাবুকে একা পেয়ে তারা পথ আটকায় এবং ধারালো ছুরি ও বন্দুক দেখিয়ে ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ভোজালির কোপ মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও সাহসের পরিচয় দেন ওই ব্যবসায়ী। তড়িঘড়ি ফোনের মাধ্যমে সহকর্মী ও বন্ধুদের খবর দেন তিনি।
খবর পাওয়া মাত্রই চাটলা বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হয় এলাকা। পালানোর পথ না পেয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে যায় কয়েকজন ছিনতাইকারী। উত্তেজিত জনতা তাদের একটি ঘরে আটকে রাখে। খবর দেওয়া হয় এগরা থানায়। পুলিশ আসার আগে গণপিটুনিতে রীতিমতো নাজেহাল হয় ধৃতরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। উদ্ধার হয়েছে ছিনতাই হওয়া সোনা ও টাকা।
এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরেই চুরির উপদ্রব বেড়েছে। মাত্র সাতদিন আগেই চাটলায় একই দিনে তিনটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া পার্শ্ববর্তী মন্দিরগুলিতে চুরির নেপথ্যেও এই একই চক্র কাজ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের দাবি, ধৃতরা কেবল ছিঁচকে চোর নয়, বরং এর পেছনে কোনও বড় আন্তঃরাজ্য ডাকাত দলের যোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের বাকি সদস্যদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। আহত ব্যবসায়ী যীশু কামিল্যা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এলাকায় পুলিশি টহলদারির দাবি তুলেছেন আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা।

No comments