নিউজবাংলা, হলদিয়া : শ্মশানে জ্বলছে তিনটি চিতা। সার দিয়ে সাজানো অরূপ মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী এবং কন্যার নিথর দেহ। মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে একটি আস্ত পরিবার মুছে গিয়েছে হলদিয়ার বালুঘাটা রোডের পিচরাস্তায়। রাজ্য সরকারের নিয়ম মেনে মৃত…
নিউজবাংলা, হলদিয়া : শ্মশানে জ্বলছে তিনটি চিতা। সার দিয়ে সাজানো অরূপ মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী এবং কন্যার নিথর দেহ। মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে একটি আস্ত পরিবার মুছে গিয়েছে হলদিয়ার বালুঘাটা রোডের পিচরাস্তায়। রাজ্য সরকারের নিয়ম মেনে মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু অরূপের পরিবারের ক্ষেত্রে সেই টাকা হাতে নেবেন কে? শোকাতুর হলদিয়ায় এখন এই বড় প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
শনিবারের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার রেশ কাটেনি এখনও। অরূপবাবু ও তাঁর পরিবারের পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন গাড়ির চালক মহাদেব শাসমলও। দুর্ঘটনায় আহত আরও ৮ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছন জেলাশাসক ইউনিস রিসিন ইসমাইল। তিনি জানান, মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে নবান্ন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, চালক মহাদেবের পরিবার ইতিমধ্যেই সরকারি সাহায্য গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু জটিলতা তৈরি হয়েছে অরূপ মন্ডলের পরিবারকে নিয়ে। যেহেতু ওই পরিবারের একমাত্র ছেলের ১৭ দিন আগেই মৃত্যু হয়েছে এবং আজ পরিবারের বাকী তিন সদস্যেরই মৃত্যু হয়েছে, তাই তাঁদের প্রাপ্য মোট ৬ লক্ষ টাকা আইনি ভাবে কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন : Haldia : ফেরা হলো না আর কৃষ্ণনগরের বাড়িতে, এক নিমিষেই শেষ একটি সুখী পরিবার | হলদিয়ার পথদুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মা ও মেয়ের !
হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বলেন, "রাজ্য সরকারের নির্দেশে আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় তদারকি জেলা প্রশাসন করছে। মৃতদের পরিবারের ক্ষেত্রে আইনি ভাবে যিনি বৈধ দাবিদার হিসেবে সামনে আসবেন, তাঁর হাতেই নিয়ম মেনে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হবে।"
আরও পড়ুন : মাত্র ১৭ দিন আগে মৃত্যু হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাঠরত একমাত্র ছেলের, আজ হলদিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল গোটা পরিবার !
এ দিন সন্ধ্যায় গ্রামের শ্মশানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জায়গা কম থাকায় প্রথমে স্থির হয়েছিল একটি একটি করে দেহ সৎকার করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীর উদ্যোগে তিনটি চিতা একসঙ্গেই সাজানো হয়। একই আগুনের শিখায় বিলীন হয়ে গেল হাসিখুশি পরিবারটির শেষ চিহ্নটুকু।
গ্রামের এক বাসিন্দা ভিজে চোখে বললেন, "টাকা তো সরকার দেবে, কিন্তু যে মানুষগুলোই নেই, তাঁদের টাকা নিয়ে কী হবে? যে পরিবারটা শেষ হয়ে গেল, তাদের অভাব কি আর টাকায় মেটে?"
No comments