নিউজবাংলা, হলদিয়া: শনিবারের ব্যস্ত সকাল। গন্তব্যে পৌঁছনোর তাড়া ছিল সকলেরই। কিন্তু বালুঘাটা-চৈতন্যপুর রাজ্য সড়কে ওত পেতে ছিল যম। হলদিয়া থেকে কুকড়াহাটিগামী একটি বাসের সঙ্গে মোটর বাইকের ভয়াবহ (Haldia) মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন…
নিউজবাংলা, হলদিয়া: শনিবারের ব্যস্ত সকাল। গন্তব্যে পৌঁছনোর তাড়া ছিল সকলেরই। কিন্তু বালুঘাটা-চৈতন্যপুর রাজ্য সড়কে ওত পেতে ছিল যম। হলদিয়া থেকে কুকড়াহাটিগামী একটি বাসের সঙ্গে মোটর বাইকের ভয়াবহ (Haldia) মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন একই পরিবারের তিন সদস্য। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের নাবালিকা কন্যার। এই ঘটনায় বাসের চালক-সহ আরও অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর জখম হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে
জানা
গিয়েছে,
মৃতরা
হলেন
সুতাহাটা থানার
কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা অরূপ মন্ডল (৫২), তাঁর স্ত্রী
প্রতিমা মন্ডল (৪৫) এবং তাঁদের
বছর
তেরোর
কন্যা
সুজিতা মন্ডল। পুলিশ ও
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান
অনুযায়ী, বেলা
পৌনে
১১টা
নাগাদ
অরূপবাবু তাঁর
স্ত্রী
ও
কন্যাকে নিয়ে
বাইকে
চেপে
ব্রজলালচকের দিকে
যাচ্ছিলেন। ঠিক
সেই
সময়
বিপরীত
দিক
থেকে
আসছিল
কুকড়াহাটিগামী বাসটি।
সুতাহাটা থানার
ঘোষের
মোড়
এলাকায়
আচমকাই
নিয়ন্ত্রণ হারায়
বাইকটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বাইকটি
রাস্তার উল্টো
দিকে
চলে
আসায়
বাসটির
সঙ্গে
তার
সরাসরি
সংঘর্ষ
হয়।
অভিঘাত
এতটাই
তীব্র
ছিল
যে,
বাইকটিকে পিষে
দিয়ে
বাসটি
রাস্তার ধারের
পাইপলাইনের রেলিংয়ে গিয়ে
সজোরে
ধাক্কা
মারে।
দুর্ঘটনার শব্দে
ছুটে
আসেন
স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা
দেখেন,
রাস্তার ওপর
রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে
রয়েছেন
অরূপবাবু ও
তাঁর
পরিবার। বাসের
ভেতর
থেকেও
তখন
ভেসে
আসছে
যাত্রীদের আর্তনাদ। স্থানীয়
বাসিন্দা শ্রীকৃষ্ণ অধিকারী জানান, "বাস এবং বাইক—
দুটোরই
গতি
ছিল
মারাত্মক। সংঘর্ষের পর
বাসের
ডানদিকে বসা
যাত্রীরা ছিটকে
পড়েন।
আমরা
গিয়ে
দেখি
বাসের
চালক
স্টিয়ারিং ও
ড্যাশবোর্ডের মাঝে
আটকে
গিয়েছেন। রক্তে
ভেসে
যাচ্ছিল চারপাশ।"
"রাস্তায় আপনার একটু অসতর্কতা বা অতিরিক্ত গতি শুধু আপনার নয়, অন্যের জীবনের প্রদীপও নিভিয়ে দিতে পারে। আজ হলদিয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল পথের নিরাপত্তা কতটা জরুরি। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন, গতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। নিজে বাঁচুন, অন্যকেও বাঁচতে দিন।"
খবর
পেয়ে
দ্রুত
ঘটনাস্থলে পৌঁছয়
সুতাহাটা থানার
পুলিশ।
ঘাতক
বাসের
তলায়
আটকে
পড়া
চালককে
উদ্ধার
করতে
আনা
হয়
ক্রেন।
দীর্ঘ
প্রচেষ্টার পর
তাঁকে
বের
করে
হলদিয়া
মহকুমা
হাসপাতালে পাঠানো
হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে
খবর,
আহত
১০
জনের
মধ্যে
কয়েকজনের অবস্থা
অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অনেকেরই হাত-পা ভেঙে গিয়েছে। আহতদের
মধ্যে
৪
জন
মহিলা
যাত্রীও রয়েছেন।
এই
মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কৃষ্ণনগর গ্রামজুড়ে শোকের
ছায়া
নেমে
এসেছে।
একই
পরিবারের তিন
জনের
অকাল
প্রয়াণে স্তম্ভিত প্রতিবেশী থেকে
শুরু
করে
সাধারণ
মানুষ।
পুলিশ
ঘাতক
বাসটিকে আটক
করেছে
এবং
দুর্ঘটনার প্রকৃত
কারণ
খতিয়ে
দেখছে।
#RoadSafety #SafeDriveSaveLife #TrafficAwareness #DriveSafe #BengalPolice #NewzBangla #PurbaMedinipurNews
No comments