Newz Bangla, পূর্ব মেদিনীপুর : স্কুল ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি। তাজপুর সমুদ্র সৈকতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হলো দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রের। এই ঘটনায় আরও দুই ছাত্র অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধ…
Newz Bangla, পূর্ব মেদিনীপুর : স্কুল ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি। তাজপুর সমুদ্র সৈকতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হলো দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রের। এই ঘটনায় আরও দুই ছাত্র অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত ছাত্রের নাম শুভজিৎ পণ্ডা (১৯)। সে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং তার বাড়ি রামনগর থানার থিয়ার এলাকায়। আহত দুই বন্ধুর নাম সুভাষ সাউ ও বিকাশ চন্দ্র জানা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে তিন বন্ধু স্থানীয় এক শিক্ষকের কাছে টিউশন পড়তে যায়। টিউশন শেষ হওয়ার পর তারা ঠিক করে তাজপুর সৈকতে মজা করবে। সেই মতো তারা তাজপুর সমুদ্রে স্নান করতে নামে। বর্তমানে পূর্ণিমার কোটাল বা সমুদ্রের প্রবল দাপটের কারণে জল কিছুটা উত্তাল ছিল। এই উত্তাল ঢেউয়ের কবলেই পড়ে তিন বন্ধু— শুভজিৎ, সুভাষ ও বিকাশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুভজিৎ সমুদ্রের অনেকটা দূরে তলিয়ে যেতে শুরু করে। তাকে বাঁচাতে অপর দুই বন্ধু সুভাষ ও বিকাশ এগিয়ে গেলে তারাও বিপদে পড়ে এবং ঢেউয়ের টানে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজে নামেন। পুলিশ সুভাষ ও বিকাশকে জল থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও শুভজিৎকে উদ্ধার করতে কিছুটা সময় লাগে।
উদ্ধারের পর তিনজনকে দ্রুত বালিসাই গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা শুভজিৎ পণ্ডাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সুভাষ সাউ বর্তমানে বালিসাই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, বিকাশের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
মৃত শুভজিতের দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একঝাঁক তরুণের আনন্দঘন পিকনিকের দিনে এই আকস্মিক মৃত্যুতে থিয়ার ও তাজপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিরাপত্তা ও কোটালের সময় সমুদ্রস্নানের ঝুঁকি নিয়ে আবারও প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল এই দুর্ঘটনা।

No comments