Newz Bangla, কলকাতা: এবার থেকে যে কোনও বিপদে রক্ষাকর্তার ভূমিকায় সরাসরি পাশে পাবে রাজ্যবাসী। জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে গোটা রাজ্যে চালু হলো সর্বভারতীয় স্তরের আদলে তৈরি উন্নতমানের ‘ক্যুইক রেসপন্স ১১২’ (Quick Response 112) পরি…
Newz
Bangla, কলকাতা: এবার
থেকে যে কোনও বিপদে রক্ষাকর্তার ভূমিকায় সরাসরি পাশে পাবে রাজ্যবাসী। জরুরি পরিস্থিতিতে
সাড়া দিতে গোটা রাজ্যে চালু হলো সর্বভারতীয় স্তরের আদলে তৈরি উন্নতমানের ‘ক্যুইক
রেসপন্স ১১২’ (Quick Response 112) পরিষেবা। মহালয়ার পবিত্র তিথিতে এই বৈপ্লবিক প্রকল্পের
সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিলেন, সাধারণ মানুষের সুরক্ষায়
পুলিশের হাত শক্ত করতে এবার থেকে লজিস্টিক ও পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনও কমতি রাখা হবে
না।
পুলিশ সূত্রের
খবর, জরুরি এই পরিষেবা আরও দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ঢেলে সাজানো হয়েছে
পুলিশের যানবাহন ব্যবস্থা। মহালয়ার দিনই প্রথম ধাপে ৪৫০টি নতুন পুলিশ গাড়ি এবং ৪৫০টি
বাইক তুলে দেওয়া হলো পুলিশের হাতে। পাশাপাশি, এই পরিষেবার গতি আরও বাড়াতে ক্যাবিনেট
ইতিমধ্যেই ১৫০০ জন চালক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে।
সময়ের ব্যবধান
কমিয়ে আনার লক্ষ্য
বর্তমানে রাজ্যে
জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের সাড়া দেওয়ার গড় সময় বা রেসপন্স টাইম যেখানে ৯০ মিনিট,
কলকাতার ক্ষেত্রে তা ১০ থেকে ১৫ মিনিট। তবে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র বা গুজরাটের মতো
রাজ্যগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সময়সীমা আরও নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী
এদিন ঘোষণা করেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি থানায় ৪টি করে গাড়ি ও ৪টি করে বাইক
দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি থানায় ১১২ ডায়ালের কাজের জন্য ২০ জন করে কর্মী (১৫
জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলা) নিয়োগ করা হবে।
পরিকাঠামো
ও আধুনিকীকরণে জোর
অনুষ্ঠানে ক্ষোভ
প্রকাশ করে পুলিশমন্ত্রী জানান, অতীতে ম্যানপাওয়ার, আধুনিক ইকুইপমেন্ট বা লজিস্টিক
সাপোর্টের অভাবে পুলিশ বাহিনীর একাংশকে একপ্রকার "ঢাল তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার"
বানিয়ে রাখা হয়েছিল। পার্কস্ট্রিট বা আসানসোলে পুলিশের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করে
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "আমি যতদিন পুলিশমন্ত্রী আছি, কোনও পুলিশের গায়ে কেউ হাত
দিলে তার অবস্থা খুব খারাপ হবে।" পুলিশকর্মীদের সুরক্ষায় এবং সরকারি সম্পত্তি
ভাঙচুরের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কড়া আইন আনা হয়েছে এবং অপর একটি প্রিভেন্টিভ আইন প্রক্রিয়াধীন
রয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশি তদন্ত
ও প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশংসা করে তিনি বীরভূমের এসপি ও জেলা পুলিশের ভূমিকার বিশেষ
প্রশংসা করেন। সম্প্রতি বীরভূমে এক স্টোন মাফিয়ার বাড়ি থেকে ২২০ কোটি টাকা ও ২৫২টি
গাড়ি উদ্ধারের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "কেন ইডি-সিবিআই লাগবে? আমাদের
পুলিশ আধিকারিকদের হাই স্কিল রয়েছে। অতীতে তাদের হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল। আমার
সময়ে জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে।"
পুজোর আগেই
১১ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ
নিয়োগ প্রক্রিয়া
নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে
রাজ্য সরকারের তৈরি সার্টিফিকেট দিয়েই নিয়োগ সম্পন্ন করার কথা জানানো হয়েছে। পুজো
আসতেই রাজ্য পুলিশের প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি নতুন কনস্টেবল পদে নিযুক্তি সম্পন্ন হচ্ছে।
আগামী সোমবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তাদের হাতে ইউনিফর্ম ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার তুলে
দেবেন। এছাড়া দুটি আইআর ব্যাটালিয়ন দ্রুত তৈরী করা হবে রাজ্যে।
নারী সুরক্ষা
ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স
আরজি কর, কসবা
ল কলেজ, দুর্গাপুর বা বারুইপুরের মতো মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত
কঠোর বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ১৮ বছরের নিচে বিয়ে এবং ওই বয়সি মেয়েদের গর্ভধারণ
কঠোর হাতে আটকাতে হবে। "আমাদের মায়েদের সুরক্ষিত করতে হবে। আমি চাইব আর একটাও
যেন আরজি কর বা বারুইপুরের মতো ঘটনা না ঘটে," বলেন তিনি। মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধেও
কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক
হস্তক্ষেপে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
পুলিশ কর্মীদের
মনোবল বাড়াতে বেতন বা অন্যান্য সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
"আপনারা মন খুলে কাজ করুন। এখানে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা ইনস্টিটিউশনাল করাপশন
বরদাস্ত করা হবে না। যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের টাইট করবেন।"
ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ,
রাজস্থান বা গুজরাটের থেকেও উন্নতমানের ‘ক্যুইক রেসপন্স’ পুলিশ পরিষেবা রাজ্যবাসীর
দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় রেখেই এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
এখন দেখার, পুলিশের এই আধুনিক রূপ অপরাধ দমনে কতটা কার্যকরী ভূমিকা নেয়।

No comments