নিউজবাংলা, মুর্শিদাবাদ: উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার পর এ বার মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যের দুই প্রান্তে দুটি পৃথক অপরাধের পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার দুপুরে ধুলিয়ান বাজার এলাকায় এক ব…
নিউজবাংলা, মুর্শিদাবাদ: উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার পর এ বার মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজ্যের দুই প্রান্তে দুটি পৃথক অপরাধের পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার দুপুরে ধুলিয়ান বাজার এলাকায় এক বিজেপি নেতাকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগে ধৃত এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। মৃত ব্যক্তির নাম সামাউন শেখ। পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় ধৃত ব্যক্তি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থেই পুলিশকে পাল্টা গুলি চালাতে হয়।
মাস দুয়েক আগে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান বাজার এলাকায় নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল স্থানীয় বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডলকে। অভিযোগ উঠেছিল, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওই নেতার দেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত হিসেবে সামাউন শেখের নাম পায় পুলিশ। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। তৎকালীন সময়ে রাজ্য রাজনীতিতেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। পরে তদন্তের ভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ধুলিয়ান এলাকার একটি হোটেলের ঘরে সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার কথা ছিল। সেইমতোই অভিযুক্ত সামাউনকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করে ফেরার সময় হঠাৎই পুলিশের হেফাজত থেকে এক পুলিশকর্মীর রিভলভার ছিনিয়ে নেয় সে। এরপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে অভিযুক্ত। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাধ্য হয়েই আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ।
গুরুতর জখম অবস্থায় সামাউনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার ভোররাতেই উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে ধৃত প্রহ্লাদ দাস নামে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল পুলিশের গুলিতে। সেখানেও ঠিক একই কায়দায় অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশি অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যে এমন পরপর দুটি ‘এনকাউন্টার’-এর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে।

No comments