Suvendu Adhikary : “ভোটজয়ের পর প্রথম সভা, নন্দীগ্রামে আবেগ আর আক্রমণের মিশেল, বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Suvendu Adhikary : “ভোটজয়ের পর প্রথম সভা, নন্দীগ্রামে আবেগ আর আক্রমণের মিশেল, বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর !

কলেজ মাঠের সভা থেকে প্রশাসন, দুর্নীতি, কাটমানি—সব ইস্যুতেই সরব মুখ্যমন্ত্রীনিউজবাংলা, নন্দীগ্রাম : নন্দীগ্রামের মাটি থেকেই রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় লড়াই জিতে রাজ্যের ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন তিনি। সেই নন্দীগ্রামেই রবিবার ফের …

 


কলেজ মাঠের সভা থেকে প্রশাসন, দুর্নীতি, কাটমানি—সব ইস্যুতেই সরব মুখ্যমন্ত্রী

নিউজবাংলা, নন্দীগ্রাম : নন্দীগ্রামের মাটি থেকেই রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় লড়াই জিতে রাজ্যের ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন তিনি। সেই নন্দীগ্রামেই রবিবার ফের শক্তি প্রদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। ভোটে জয়ের পর এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নন্দীগ্রাম কলেজ মাঠে জনসভা করলেন শুভেন্দু। আর সেই সভামঞ্চ থেকেই কার্যত আক্রমণের ঝাঁঝালো সুরে বিরোধীদের একহাত নিতে দেখা গেল তাঁকে।

দুপুর গড়াতেই কলেজ মাঠে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি সমর্থকরা। দলের পতাকা, মুখ্যমন্ত্রীর কাটআউট আর ‘নন্দীগ্রামের গর্ব’ স্লোগানে সভাস্থল কার্যত মিছিলের চেহারা নেয়। মঞ্চে উঠে শুভেন্দুও বারবার স্মরণ করেন নন্দীগ্রামের আন্দোলনের দিনগুলিকে। তাঁর কথায়, “এই মাটি আমাকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় দেয়নি, লড়াই করার শক্তিও দিয়েছে।”

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, কাটমানি, নিয়োগ বিতর্ক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা—একাধিক ইস্যুতে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই আজ বাংলায় নতুন সরকার এসেছে। যারা বছরের পর বছর ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করেছে, তারা এখন মানুষের রায় মানতে পারছে না।”

এ দিন শুভেন্দুর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি উঠে আসে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা। প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া সুরে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কাজ আটকে দিলে বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “সরকার মানুষের টাকায় চলে। সেই টাকা লুট হলে সরকার চুপ করে থাকবে না।”

একই সঙ্গে বিরোধীদের কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “যারা এতদিন নন্দীগ্রামকে নিজেদের রাজনৈতিক সম্পত্তি ভাবত, মানুষ তাদের জবাব দিয়েছে। এখন আবার মিথ্যা প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই সভাস্থলে হাততালি ও স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে মাঠ।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, লোকসভা ভোটের আগে নন্দীগ্রামের এই সভা শুধু প্রশাসনিক বা উন্নয়নমূলক বার্তা নয়, বরং স্পষ্ট রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনও। বিশেষ করে শুভেন্দুর বক্তব্যে বারবার ‘সংগঠনকে বুথস্তরে আরও শক্তিশালী করার’ বার্তা উঠে আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে।

সভা থেকে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তা, সেচ, কৃষি ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন তিনি। পাশাপাশি দাবি করেন, নন্দীগ্রামকে “বাংলার মডেল ব্লক” হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে।

যদিও শুভেন্দুর সভাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবিরও। তাদের দাবি, “সভা থেকে শুধু রাজনৈতিক আক্রমণই শোনা গিয়েছে, বাস্তব উন্নয়নের রূপরেখা নয়।” যদিও বিজেপির পাল্টা দাবি, মানুষের বিপুল উপস্থিতিই প্রমাণ করছে নন্দীগ্রামে এখনও শুভেন্দুর জনপ্রিয়তা অটুট।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নন্দীগ্রামের এই সভা কার্যত আগামী দিনের বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে গেল। আর সেই বার্তার কেন্দ্রে রয়েছেন শুভেন্দু নিজেই।

No comments