নিজস্ব সংবাদদাতা, ফলতা: বিধানসভা নির্বাচনের পুনর্নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ, রবিবার ভোটের ফল প্রকাশের পর সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভরাডুবি হয়েছে। ফলতার এই ফলা…
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফলতা: বিধানসভা নির্বাচনের পুনর্নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ, রবিবার ভোটের ফল প্রকাশের পর সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভরাডুবি হয়েছে। ফলতার এই ফলাফলের পরেই শাসকদল তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জোড়াফুল শিবিরের এই বিপর্যয়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "কুখ্যাত ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেল আসলে পরিণত হলো ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেলে।"
রবিবার ফলতার ফল স্পষ্ট হতেই সমাজমাধ্যমে বিজেপির এই জয়ের জন্য এলাকার আমজনতাকে নত মস্তকে প্রণাম জানান মুখ্যমন্ত্রী। ফলতার ‘জনতা-জনার্দন গণদেবতা’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, "বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে বিপুল জনাদেশ দিয়ে বিধানসভায় পাঠানোর জন্য আমি ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আমি এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম, কিন্তু জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজারও পেরিয়ে গিয়েছে।" একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, "উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ আমরা শোধ করব। সোনার ফলতা গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ।"
"একটি নীতি-আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে।"
— শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ
তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি ও বিগত দিনের জয়ের খতিয়ানকে তীব্র কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুঠ, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল।"
মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় এদিন বিশেষভাবে ছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা 'সেনাপতি' তকমা পাওয়া নেতা। নাম না করে তাঁকে ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’ বলে আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, "প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াতি রাজ কায়েম করা হয়েছিল। এমন কোনো অপরাধ নেই যা সেখানে সংগঠিত করা হয়নি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতে কোনো কসুর করা হয়নি।"
রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার এই নির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই চড়ছিল পারদ। বিগত নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দুর দাবি, সেবার নির্বাচনকে পরিহাসে পরিণত করে এই বিধানসভা ক্ষেত্রে দেড় লাখ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখনই আসল বাস্তব এবং কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকাশ্যে চলে এলো।
তৃণমূলের এই পরাজয়কে স্রেফ শুরু বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রত্যাখ্যানের এই দীর্ঘ যাত্রা এবার ঘাসফুল শিবিরকে অতিক্রম করতে হবে। তাঁর দাবি, আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে ‘নোটা’ (NOTA)-র বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ‘নোটা’-র কাছেও পরাজিত হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও এই জমজমাট লড়াই প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন এ রাজ্যের মানুষ।"
সব মিলিয়ে, ফলতার এই হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর একদিকে যেমন গেরুয়া শিবিরে উল্লাসের হাওয়া, তেমনই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝাঁঝালো মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।

No comments