নিউজবাংলা, কাঁথি: সন্দেশখালির ছায়া এবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে? বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই পটাশপুর ২ নম্বর ব্লকের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস ঘিরে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। পঞ্চায়েত অফিসের ভেতর থেকে খাট, বিছানা, এসি, শাড়ি এবং ক…
নিউজবাংলা, কাঁথি: সন্দেশখালির ছায়া এবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে? বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই পটাশপুর ২ নম্বর ব্লকের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস ঘিরে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। পঞ্চায়েত অফিসের ভেতর থেকে খাট, বিছানা, এসি, শাড়ি এবং কন্ডোমের পাশাপাশি উদ্ধার হল জুয়ার বোর্ড ও শয়ে শয়ে রেশন কার্ড। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান বিজন বন্ধু বাগকে। ধৃতকে সোমবার কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানায় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের তালা খোলেন বিজেপি কর্মীরা। আর ভেতরে ঢুকতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয় তাঁদের। অফিসের তিন তলার একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় বিলাসবহুল খাট, বিছানা, এসি, শাড়ি এবং একাধিক কন্ডোম। শুধু তাই নয়, কার্যালয়ের ভেতর থেকে মিলেছে জুয়ার বোর্ড এবং সাধারণ মানুষের শয়ে শয়ে রেশন কার্ড ও মৎস্যজীবীদের পরিচয়পত্র। সরকারি দফতরকে কীভাবে এই ধরনের অসামাজিক কাজের আখড়া বানিয়ে তোলা হল, তা নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান বিজন বন্ধু বাগের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের স্পষ্ট দাবি, সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের মতোই এই এলাকায় সমান্তরাল রাজত্ব ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালাতেন এই তৃণমূল নেতা। বিজনবন্ধুকে ‘পটাশপুরের শাহজাহান’ বলে দেগে দিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ:
- সরকারি এই পঞ্চায়েত অফিসকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ব্যক্তিগত ‘প্রমোদতরী’ বানিয়ে রেখেছিলেন স্থানীয় কিছু তৃণমূল প্রভাবশালী।
- সাধারণ মানুষের রেশন কার্ড ও পরিচয়পত্র আটকে রেখে দুর্নীতি চালানো হচ্ছিল।
- ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে পদ্ম শিবির।
ঘটনা প্রসঙ্গে পটাশপুরের ওসি প্রণব রায় জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার অভিযুক্তকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে, ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। সূত্রের ২০১৮ সালে পরিচারিকাকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ সহ একাধিক অভিযোগে তাঁকে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পঞ্চায়েত অফিসের ভেতর থেকে এই ধরনের আপত্তিকর জিনিস ও সরকারি নথি উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

No comments