নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কলকাতার পার্ক সার্কাসে রবিবার বিক্ষোভের নামে পুলিশের ওপর হামলা, পথ অবরোধ এবং পাথর ছোঁড়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালেই তিনি পার্ক সার্কাস এলাকায় পরিস্থিতি …
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কলকাতার পার্ক সার্কাসে রবিবার বিক্ষোভের নামে পুলিশের ওপর হামলা, পথ অবরোধ এবং পাথর ছোঁড়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালেই তিনি পার্ক সার্কাস এলাকায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান এবং এই ঘটনার কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে এই ধরনের গুন্ডামি, ভাঙচুর ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। উপদ্রবকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "এটাই শেষবার। রাজ্যে এমন ঘটনা আর দ্বিতীয়বার ঘটতে দেওয়া হবে না।"
আহত পুলিশ কর্মীদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী
রবিবারের হিংসাত্মক ঘটনায় কর্তব্যরত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী এবং সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আজ নিজেই তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, হামলায় আহত হয়েছেন:
- শ্রী চিত্রদীপ পাণ্ডে (ACP 3, এসিডি)
- রাজেশ কুমার সিং (ইন্সপেক্টর ও ওসি, বেনিয়াপুকুর থানা)
- শ্যামল কুমার ঘোষ (এএসআই, ডিআরও এসিডি)
- শাহজাদা শেখ (কনস্টেবল, বেনিয়াপুকুর থানা)
- তরুণ কুমার দাস (কনস্টেবল, ডিআরও এসিডি)
- অনির্বাণ মজুমদার (সিবি)
এছাড়াও আরও দু'জন সিআরপিএফ জওয়ান এই ঘটনায় আহত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পুলিশ আধিকারিকদের মনোবল বাড়াতে সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে।
'জিরো টলারেন্স' নীতি, ইতিমধেই গ্রেপ্তার ৪০
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, এই হামলা কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত ছিল। ঘটনার আগেই সমাজমাধ্যমে এই সংক্রান্ত উস্কানিমূলক পোস্ট করা হয়েছিল বলে পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আগে পুলিশকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তা এখন আর নেই। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী পুলিশ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। যারা ভাবছেন ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে পাথর ছুঁড়ে পার পেয়ে যাবেন, তাঁরা ভুল ভাবছেন। কাশ্মীর থেকেও পাথর ছোঁড়ার ঘটনা বন্ধ হয়ে গেছে, পশ্চিমবঙ্গেও এটা বন্ধ হওয়া দরকার।"
তিনি আরও জানান, লালবাজার এবং কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা স্বয়ং এই গোটা বিষয়টির ওপর নজর রাখছেন। ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, দোষীদের কঠোর সাজা (কনভিকশন) সুনিশ্চিত করতে পুলিশকে ক্লোজ মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলায় কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস
মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা পুলিশের দক্ষতা ও সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, "আমাদের পুলিশ অত্যন্ত দক্ষ ও শিক্ষিত। কাল তাঁরা বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি থেকে শহরকে বাঁচিয়েছেন।" তিনি আশ্বাস দেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে কলকাতা পুলিশের পরিকাঠামো ও লজিস্টিক সাপোর্ট আরও উন্নত করা হবে।
শহরে শান্তি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আরও কিছুদিনের জন্য আধাসামরিক বাহিনী (প্যারামিলিটারি ফোর্স) মোতায়েন রাখার আবেদন জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নাগরিকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, "কারও কোনও অভিযোগ থাকলে তা আইন মেনে ওসি, ডিসি বা প্রয়োজনে নবান্নে জানান। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পাথরবাজি করলে সরকার আইনগতভাবে সর্বোচ্চ কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।"

No comments