নিউজবাংলা | তমলুক : কাজের পাহাড় জমেছে। সময় কম, অথচ ঝুলে রয়েছে হাজার হাজার নথির ভাগ্য। এই পরিস্থিতিতে (WBSIR2026) পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ভোটার তালিকার ত্রুটি সংশোধন ও ‘সার্চ ইন্ডিকেটর অ্যাট্রিবিউট রিপোর্ট’ (SIA) যাচাইয়ের কাজে বড়সড় …
নিউজবাংলা | তমলুক : কাজের পাহাড় জমেছে। সময় কম, অথচ ঝুলে রয়েছে হাজার হাজার নথির ভাগ্য। এই পরিস্থিতিতে (WBSIR2026) পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ভোটার তালিকার ত্রুটি সংশোধন ও ‘সার্চ ইন্ডিকেটর অ্যাট্রিবিউট রিপোর্ট’ (SIA) যাচাইয়ের কাজে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। লক্ষ্য একটাই— দ্রুত জট কাটানো। আর সেই উদ্দেশ্যেই বৃহস্পতিবার থেকে জেলায় নতুন করে আরও ১১ জন বিচারককে এই বিশেষ দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হলো।
গত দু’দিন ধরে জেলায় জেলা জজ এবং আরও আটজন অতিরিক্ত জেলা জজ এই যাচাইয়ের কাজ করছিলেন। কিন্তু নথির বিপুল চাপ সামলাতে নাজেহাল অবস্থা তৈরি হওয়ায় আরও ১১ জনকে ময়দানে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ২০ জন বিচারক এখন এসআইআর-এর নথি যাচাইয়ের কাজে ব্যস্ত।
প্রশাসনিক কাজে বিচারকদের এভাবে যুক্ত করার ফলে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। আদালত সূত্রের খবর:
- তমলুক, হলদিয়া ও কাঁথি আদালতে একসঙ্গে ২০ জন বিচারক প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় নিয়মিত মামলার কাজ ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
- স্থগিত হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া।
- আইনজীবীদের আশঙ্কা, এর ফলে মামলার আয়ু আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি বাড়বে।
- সাক্ষ্যগ্রহণ বিঘ্নিত হওয়ায় একাধিক ফাঁকা কোর্টে ট্রায়াল বন্ধ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জেলায় ভোটার তালিকা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ময়না বিধানসভায় ‘ভুতুড়ে’ ভোটার এন্ট্রির ঘটনায় দুই অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকে প্রশাসনের অন্দরে এক প্রকার ত্রাহি ত্রাহি রব। কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কেউ। ‘নো ম্যাপিং’ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ থাকা প্রায় এক লক্ষ ভোটারের নথি ফের নতুন করে যাচাই করার নির্দেশ এসেছে।
পরিসংখ্যান এক নজরে:
- মোট যাচাইকারী বিচারক: ২০ জন (নতুন ১১ জনসহ)।
- কাজের বণ্টন: তমলুক সার্কিট হাউসে ১১ জন, কাঁথিতে ৬ জন এবং হলদিয়ায় ৩ জন বিচারক কাজ করছেন।
- বাদ পড়া ভোটার: খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৯৩৬ জনের নাম বাদ পড়েছে।
- নোটিস প্রত্যাখ্যান: ২৭১৯ জন ভোটার ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ নোটিস গ্রহণ করেননি।
জানা গিয়েছে, তমলুকে ৫ জন, কাঁথিতে ৪ জন এবং হলদিয়ায় ২ জন বিচারক সরাসরি মহকুমা শাসকের অফিসে বসে নথি পরীক্ষার কাজ করছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে সন্দেহজনক ভোটারদের পরিচয় এবং নথিপত্র নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জেলা ও দায়রা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক শিবকুমার ঘোষ জরুরি এবং জামিন সংক্রান্ত মামলার দায়িত্বে থাকলেও, সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থা এখন ভোটার তালিকা সংশোধনের চাপের নিচে চাপা পড়েছে।
এখন দেখার, বিচারকদের এই ‘বাড়তি’ পরিশ্রমে কত দ্রুত নথির পাহাড় সাফ হয় এবং সাধারণ মানুষ কবে ফের আদালতের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পান।
#PurbaMedinipur #WestBengalNews #AnandabazarPatrikaStyle #BreakingNews #BengalPolitics #VoterListVerification #NewzBangla

No comments