নিউজবাংলা, চন্ডীপুর :শংসাপত্রের লড়াইয়ে হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান। চণ্ডীপুরের ঈশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান খুকুরাণি মণ্ডল ঘড়াইয়ের ওবিসি (OBC) শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্…
নিউজবাংলা, চন্ডীপুর : শংসাপত্রের লড়াইয়ে হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান। চণ্ডীপুরের ঈশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান খুকুরাণি মণ্ডল ঘড়াইয়ের ওবিসি (OBC) শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের নির্দেশ, আগামী সাত দিনের মধ্যে খুকুরাণির ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করতে হবে তমলুকের মহকুমা শাসককে।
প্রসঙ্গতঃ ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ন’জন এবং বিজেপির ছয় জন সদস্য রয়েছেন। তৃণমূলের তরফে খুকুরাণি ওই পঞ্চায়েতের প্রধান হন। সেখানে প্রধানের পদটি ওবিসি-দের জন্য সংরক্ষিত ছিল। খুকুরাণির বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো’ ওবিসি শংসাপত্র দিয়ে ভোটে লড়ার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা করেন বিজেপি প্রার্থী রণজিৎ রক্ষিত।
আদালত সূত্রে খবর, মামলার শুনানিতে খুকুরাণি তাঁর ওবিসি পরিচয়ের সপক্ষে কোনও নির্দিষ্ট নথিপত্র বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এর আগে মহকুমা শাসকও তদন্ত করে দেখেছিলেন যে, শংসাপত্রটি আইনানুগভাবে সঠিক নয়। হাইকোর্ট এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানায়, যখন মহকুমা শাসক নিশ্চিত হয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওবিসি সম্প্রদায়ের নন, তখন তা বাতিলের পদক্ষেপ নিতে এত দেরি হওয়া অনুচিত ছিল।
হাইকোর্টের এই রায়ের পরেই সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে লিখেছেন:
“ন্যায়ের চাকা অবশেষে ঘুরেছে। তৃণমূলের দ্বারা আমাদের সাংবিধানিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার জালিয়াতি ও অপব্যবহারের আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ প্রকাশ্যে এসেছে।”
শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজ্যে বর্তমানে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র তৈরির একটি ‘চক্র’ সক্রিয়। অনেক ক্ষেত্রে বিডিও (BDO) বা এসডিও (SDO)-দের একাংশের মদতে এই কাজ চলছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া— সর্বত্রই এই জালিয়াতির ছায়া দেখা যাচ্ছে।
The Wheels of Justice have finally turned, exposing yet another glaring example of the Trinamool Congress's brazen fraud and subversion of our Constitutional Reservation system.
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) February 25, 2026
Today, the Hon'ble Calcutta High Court, has unequivocally upheld the Sub-Divisional Officer's finding… pic.twitter.com/5CzWCCWoAk
ঈশ্বরপুরের এই ঘটনা আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যে হাজার হাজার ভুয়ো শংসাপত্র ছড়িয়ে রয়েছে যার জেরে প্রকৃত ওবিসি, এসসি বা এসটি প্রার্থীরা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিচারপতি রাওয়ের এই কড়া নির্দেশের পর এখন খুকুরাণি প্রধানের পদে থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। রণজিৎ রক্ষিত দাবি, “তৃণমূল জমানায় এমন জালিয়াতি আকছার হচ্ছে। এবার সত্য সামনে এল।
#FakeCasteCertificate #OBCScam #HighCourtVerdict #PurbaMedinipurNews #TMCExposed #JusticePrevails #ConstitutionalFraud #NewzBangla

No comments