নিউজবাংলা, কলকাতা: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শুনানি কিংবা তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে পারল না নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি এমনই যে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয় বুঝে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অতিরিক্ত…
নিউজবাংলা, কলকাতা: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শুনানি কিংবা তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে পারল না নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি এমনই যে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয় বুঝে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছে তারা।
এই খবরটি অডিও আকারে শুনতে এই প্লেয়ারটি চালু করুন :রবিবার রাত পর্যন্ত দিল্লি থেকে অবশ্য সবুজ সংকেত আসেনি। এই টানাপড়েনের আবহেই আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ফের উঠতে চলেছে এসআইআর (SIR) মামলা। দেশের শীর্ষ আদালত আজ কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
আইনি মহলের মতে, গত কয়েক দিনের ঘটনাক্রমে কমিশন কার্যত ব্যাকফুটে। একদিকে সময়ের অভাব, অন্যদিকে সুপ্রিম নির্দেশের পর মুখ্যমন্ত্রীর তোলা দাবিগুলি মেনে নিতে বাধ্য হওয়া— সব মিলিয়ে চাপে কমিশন। নবান্ন ইতিমধ্যেই কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, এসআইআর-এর কাজের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক (প্রায় ৮,৫০৫ জন) গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে রাজ্য প্রস্তুত। অথচ এর আগে কমিশন দাবি করেছিল, রাজ্য সঠিক সহযোগিতা করছে না বলেই তাদের ভিন রাজ্য থেকে আধিকারিক আনতে হয়েছে।
কমিশনের পালটা দাবি, জেলাগুলিতে কাজ করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ নেই। ইঁতাহার, ফারাক্কা, চাকুলিয়া-সহ বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক গোলমালের ইঙ্গিত দিয়ে কমিশন হলফনামায় জানিয়েছে, তাদের আধিকারিক ও মাইক্রো অবজার্ভাররা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সেই কারণেই পঞ্চায়েত স্তরের ভবনে শুনানি করতে চাইছে না তারা।
আরও পড়ুন : Digha : বিদেশি পর্যটক টানায় বাংলা এখন ‘সেকেন্ড’, সামনে শুধু মহারাষ্ট্র, সৌজন্যে দিঘা’র জগন্নাথ ধাম !
অন্যদিকে, তৃণমূলের আর্জি মেনেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, শুনানি হবে পঞ্চায়েত স্তরেই। কিন্তু শনিবার কমিশন হলফনামা দিয়ে সেই নির্দেশ পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, হিংসার আবহে গ্রামীণ এলাকায় শুনানি প্রক্রিয়া চালানো অসম্ভব।
আরও পড়ুন : Haldia : দুই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার দ্বন্দ্বে তপ্ত হলদিয়া, সমীকরণ বদলে মরিয়া ঘাসফুল শিবির !
গত শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাণিত যুক্তি কমিশনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণকে সামনে এনে দিয়েছিল। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির দোহাই দিয়ে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, শীর্ষ আদালত সেই কড়া বার্তাই দিয়েছিল।
এমনকি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্রকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে শনিবারই মান্যতা দিতে বাধ্য হয়েছে কমিশন। আইনি লড়াইয়ে রাজ্য আপাতত কয়েক কদম এগিয়ে থাকলেও, আজকের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চ চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।
#SupremeCourtHearing #VoterListUpdate #StateVsCommission #LegalNews #BengalElection #JusticeSuryaKant #Democracy #NewzBangla

No comments