নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়না: ভাত বাড়া ছিল টেবিলে। গ্রাস তোলার আগেই বাড়িতে ঢুকল পুলিশ। ময়নার দাপুটে বিজেপি নেতা উত্তম সিংকে কার্যত টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। আর এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করেই রণক্ষেত্রের চে…
নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়না: ভাত বাড়া ছিল টেবিলে। গ্রাস তোলার আগেই বাড়িতে ঢুকল পুলিশ। ময়নার দাপুটে বিজেপি নেতা উত্তম সিংকে কার্যত টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। আর এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ময়না।
খবর পেয়েই পূর্ব মেদিনীপুরের মাটি কামড়ে পড়ে থাকা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সটান পৌঁছে গেলেন থানা চত্বরে। পুলিশের সঙ্গে চলল তীব্র বাদানুবাদ। মেজাজ হারিয়ে পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বললেন, “জুন মাসের পর এই সরকার থাকবে না, শুধু এই মুখগুলো আর ছবিগুলো থেকে যাবে। তখন হিসেব হবে।”
এ দিন দুপুর থেকেই উত্তেজনা দানা বাঁধছিল ময়নায়। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, কোনও আগাম নোটিশ ছাড়াই উত্তম সিংকে বাড়ির খাবারের টেবিল থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। এই খবর চাউর হতেই ময়না থানার সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয় থানা চত্বর। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গ বানিয়ে ফেলা হয় গেট। অনুমতি ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।
বিকেলের দিকে মেজাজি মেজাজে ময়নায় পদার্পণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। থানার গেটে পুলিশি বাধা পেয়ে মেজাজ হারান তিনি। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ, পুলিশ দলদাসের মতো কাজ করছে এবং বিরোধী নেতাদের কণ্ঠরোধ করতে মিথ্যে মামলা সাজানো হচ্ছে।
থানার বাইরে দাঁড়িয়েই রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বিরোধী দলনেতা। তিনি সাফ জানান:
- গ্রেফতারি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অগণতান্ত্রিক।
- উত্তম সিংয়ের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
- পুলিশি অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
“ছবিগুলো তোলা থাকছে। জুন মাস আসুক, এই ব্যবস্থা আমূল বদলে দেব। তখন বুঝবেন আইনের শাসন কাকে বলে।” > — থানার সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর।


No comments