নিউজবাংলা, পাঁউশি: “যদিদং হৃদয়ং তব, তদিতং হৃদয়ং মম।” আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গোধূলি বেলায়, যখন আকাশ জুড়ে সিঁদুরে আভা, ঠিক তখনই বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে এক অন্যরকম মহামিলনের সাক্ষী থাকল পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁউশি অন্ত্য…
নিউজবাংলা, পাঁউশি: “যদিদং হৃদয়ং তব, তদিতং হৃদয়ং মম।” আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গোধূলি বেলায়, যখন আকাশ জুড়ে সিঁদুরে আভা, ঠিক তখনই বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে এক অন্যরকম মহামিলনের সাক্ষী থাকল পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম। দারিদ্র্যের বাধা কাটিয়ে, সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সঙ্গী করে নতুন জীবনে পা রাখলেন তেরো জোড়া নবদম্পতি।
পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের এটি ছিল একাদশতম গণবিবাহের আসর। মূলত অর্থের অভাবে যে সমস্ত পরিবার কন্যাসন্তানের বিয়ে দিতে পারছিলেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই আশ্রমের কর্ণধার বলরাম করণের এই বিশেষ উদ্যোগ। এ বার সেই আয়োজনে পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ‘সুপারট্রণ’ সংস্থা। সংস্থার কর্ণধার ভি. কে. ভাণ্ডারী ও তাঁর পরিবারবর্গের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আক্ষরিক অর্থেই উৎসবে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের কিছু বিশেষ মুহূর্ত:
দানসামগ্রী: নবদম্পতিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সোনার গয়না, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, খাট-সহ সংসারের যাবতীয় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
উপস্থিতি: প্রায় আট হাজার মানুষের উপস্থিতিতে আশ্রম প্রাঙ্গণ ছিল জনসমুদ্র। সমাজের বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত থেকে আশীর্বাদ করেন নববিবাহিতদের।
সাংস্কৃতিক ছোঁয়া: আশ্রমের আবাসিক ও জেলার বিশিষ্ট শিল্পীদের সমন্বয়ে আয়োজিত বিচিত্রানুষ্ঠান গোধূলির পরিবেশকে আরও মায়াবী করে তোলে।
আশ্রম সূত্রে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র আচার-অনুষ্ঠান নয়, আমন্ত্রিত কয়েক হাজার মানুষের জন্য ছিল এলাহি প্রীতিভোজের ব্যবস্থা। বলরাম করণ ও ভি. কে. ভাণ্ডারীর এই যৌথ উদ্যোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিয়ে মানে যে কেবল খরচ আর আড়ম্বর নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব পালন— মাতৃভাষা দিবসের সন্ধ্যায় সেই বার্তাই যেন আরও একবার প্রতিধ্বনিত হলো পাঁউশির আকাশ-বাতাসে।
এক ঝলকে আরও কিছু মুহূর্তের ছবি :

No comments