নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রত্যাশা ছিল পাহাড়প্রমাণ, কিন্তু প্রাপ্তি মিলল যৎসামান্য। রাজ্য বাজেটে পার্শ্ব-শিক্ষকদের মাসিক ভাতা মাত্র ১ হাজার টাকা বৃদ্ধির ঘোষণার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সল্টলেকের বিকাশ ভবন চত্বর।…
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রত্যাশা ছিল পাহাড়প্রমাণ, কিন্তু প্রাপ্তি মিলল যৎসামান্য। রাজ্য বাজেটে পার্শ্ব-শিক্ষকদের মাসিক ভাতা মাত্র ১ হাজার টাকা বৃদ্ধির ঘোষণার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সল্টলেকের বিকাশ ভবন চত্বর। ‘শিক্ষা বাঁচাও মঞ্চ’-এর ডাকে আয়োজিত এই অভিযানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় ধস্তাধস্তিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট কথা, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বসে বসে ৫০০ টাকা বাড়ল, বেকারদের জন্য দেড় হাজার টাকা ভাতা বরাদ্দ হলো, আর আমরা বছরের পর বছর হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পেলাম মাত্র ১ হাজার টাকা? এটা সম্মান নয়, কার্যত ভিক্ষা দেওয়া হয়েছে।”
এদিন দুপুর থেকেই সল্টলেক করুণাময়ী মোড় থেকে মিছিল করে বিকাশ ভবনের দিকে এগোতে শুরু করেন কয়েক হাজার পার্শ্ব-শিক্ষক। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগেভাগেই পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল বাহিনী। রাস্তার মোড়ে মোড়ে তৈরি করা হয়েছিল লোহার ব্যারিকেড। কিন্তু আন্দোলনকারীরা বিকাশ ভবনের গেটের সামনে পৌঁছতেই মেজাজ হারান।
পুলিশের তৈরি ব্যারিকেড টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। বেশ কয়েকজন পার্শ্ব-শিক্ষককে চ্যাংদোলা করে ভ্যানে তুলতে দেখা যায় পুলিশকে। আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে করুণাময়ী ও বিকাশ ভবন সংলগ্ন রাস্তা।
আন্দোলনকারীদের প্রধান ক্ষোভ বাজেটের বৈষম্য নিয়ে। তাঁদের দাবি:
- বর্তমানে প্রাথমিকে ১০ হাজার এবং উচ্চ-প্রাথমিকে ১৩ হাজার টাকা ভাতা পান পার্শ্ব-শিক্ষকরা। দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর মাত্র ১ হাজার টাকা বৃদ্ধিকে তাঁরা ‘লজ্জাজনক’ বলে মনে করছেন।
- বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, যেখানে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই উপভোক্তারা বর্ধিত টাকা পাচ্ছেন বা বেকার যুবকদের জন্য দেড় হাজার টাকা ‘ভাতা’ বরাদ্দ হচ্ছে, সেখানে একজন শিক্ষকের মেধার দাম কেন মাত্র ১ হাজার টাকা?
- তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি— পূর্ণ শিক্ষক হিসেবে স্থায়ীকরণ এবং সমকাজে সমবেতন। অথচ সরকার স্রেফ ‘সাম্মানিক’ বাড়িয়ে ক্ষোভ ধামাচাপা দিতে চাইছে।
রাজ্যের শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি পার্শ্ব-শিক্ষক রয়েছেন। ২০০৪-০৫ সাল থেকে সর্বশিক্ষা মিশনের অধীনে এঁদের নিয়োগ শুরু হলেও আজ পর্যন্ত স্থায়ীকরণের দাবি পূরণ হয়নি। প্রতি বছর চুক্তির পুনর্নবীকরণ করে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের।
যদিও সরকারের দাবি, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ব-শিক্ষকদের জন্য অবসরের সময় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এককালীন অনুদান ও স্বাস্থ্যসাথীর মতো সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘সামান্য’ বৃদ্ধিতে চিঁড়ে ভিজবে না। বিকাশ ভবনের সামনে রাত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
#ParaTeacherProtest #BikashBhavanAbhijan #WestBengalNews #EducationMinister #SalaryHike #ParaTeacherNews #KolkataProtest #NewzBangla

No comments