নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজার অপেক্ষায় রাজ্য। তার ঠিক আগেই বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায় বড় চাল চাললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেটে ঘোষিত হল নতুন প্রকল্প— ‘বাংলার যুব সাথী’। এই প্র…
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজার অপেক্ষায় রাজ্য। তার ঠিক আগেই বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায় বড় চাল চাললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেটে ঘোষিত হল নতুন প্রকল্প— ‘বাংলার যুব সাথী’। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের শিক্ষিত (Bengal Budget) বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসে দেড় হাজার টাকা করে বেকার ভাতার কথা ঘোষণা করেছে নবান্ন। রাজনৈতিক মহলের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সাফল্যের পর এবার যুব সমাজকে পাশে পেতেই এই মেগা পরিকল্পনা।
রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেন। সেখানেই এই নতুন প্রকল্পের কথা জানানো হয়। প্রকল্পের মূল বিষয়গুলি হলো:
ভাতার পরিমাণ: যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে বেকার ভাতা পাবেন।
সময়সীমা: এই ভাতা টানা ৫ বছর পর্যন্ত দেওয়া হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ বা সমতুল্য যোগ্যতা থাকলেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে।
বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪১ বছরের মধ্যে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা রাজ্য সরকারের অন্য কোনও স্কলারশিপ বা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না, মূলত তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই ‘বাংলার যুব সাথী’। এই প্রকল্পের জন্য সরকার প্রাথমিক ভাবে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আগামী ১৫ অগস্ট ২০২৬ থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছনো শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে যুব ভোট ব্যাংক যে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে, তা ভালোই বোঝে শাসক দল। বিশেষ করে কর্মসংস্থান নিয়ে বিরোধীদের ক্রমাগত আক্রমণের মুখে এই প্রকল্প তৃণমূলের বড় হাতিয়ার হতে পারে। তৃণমূল শিবিরের দাবি, "দেশের আর কোনও রাজ্যে বেকারদের জন্য এমন ধারাবাহিক প্রকল্প নেই।"
আরও পড়ুন : Bengal Budget : ভোটমুখী বাজেটে মাস্টারস্ট্রোক: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ বৃদ্ধি, ভাতা বাড়ল আশাকর্মী থেকে সিভিকের, সরকারী কর্মচারীদের ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা !
অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ঘোষণাকে ‘ভোটের আগে খয়রাতি’ বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, রাজ্যে কলকারখানা গড়ে কর্মসংস্থান করার বদলে সরকার কেবল ভাতার মাধ্যমে যুব সমাজকে ভোলাতে চাইছে। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে আপাতত চর্চায় সেই ১৫০০ টাকা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর ‘বাংলার যুব সাথী’ তৃণমূলের বৈতরণী পার করতে কতটা সাহায্য করে, সেটাই এখন দেখার।

No comments