Nandigram : লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ‘লক্ষ্মীলাভ’, উচ্ছ্বাসে ভাসছে নন্দীগ্রাম, চাপে বিরোধীরা ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Nandigram : লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ‘লক্ষ্মীলাভ’, উচ্ছ্বাসে ভাসছে নন্দীগ্রাম, চাপে বিরোধীরা !

নিউজবাংলা, তমলুক : লোকসভা ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতির আঙিনায় বইছে উৎসবের মেজাজ। অনুঘটক— ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের এই প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণাকে হাতিয়ার করে নন্দীগ্রাম থেকে …

 


নিউজবাংলা, তমলুক : লোকসভা ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতির আঙিনায় বইছে উৎসবের মেজাজ। অনুঘটক— ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের এই প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণাকে হাতিয়ার করে নন্দীগ্রাম থেকে কাঁথি, কার্যত অকাল বসন্তের আবহে ভাসছে ঘাসফুল শিবির। 

একদিকে ভাণ্ডারে বাড়তি টাকার আনন্দ, অন্যদিকে সমাজের ‘বিশিষ্ট’দের দুয়ারে দুয়ারে সরকারের ১৫ বছরের কাজের খতিয়ান পৌঁছে দেওয়া— এই জোড়া কৌশলেই এখন উপকূলবর্তী জেলায় বিজেপি-কে কোণঠাসা করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।

রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকেই জেলায় জেলায় শঙ্খধ্বনি ও আবির খেলায় মেতেছেন মহিলারা। এখন থেকে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্তরা ১,৭০০ টাকা করে পাবেন। 

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাতে ‘শর্তের বেড়াজাল’ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে ভোটারদের একাংশের মধ্যে। তার বদলে মমতার ‘নিশ্চিত’ সহায়তায় মহিলারা যে বেশি আস্থাশীল, নন্দীগ্রামের উচ্ছ্বাস তারই প্রমাণ দিচ্ছে।

শুধু প্রকল্পের টাকা নয়, মেদিনীপুরের বুদ্ধিজীবী ও মতপ্রণেতাদের (Opinion Leaders) মন জয়ে বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল। কাঁথি ও তমলুক সাংগঠনিক জেলায় দলের ১৫ বছরের কাজের খতিয়ান বা ‘রিপোর্ট কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিশিষ্টজনদের হাতে।

  • চণ্ডীপুর: বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. পীযূষ কান্তি দাস ও আইনজীবী আনন্দ দাসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এই খতিয়ান।
  • সমাজসেবা: বাদ যাননি সমাজকর্মী গৌর মাইতি বা আইনজীবী সুব্রত দাসের মতো ব্যক্তিত্বরাও।
  • দলের লক্ষ্য পরিষ্কার— সমাজের প্রভাবশালী অংশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

এই জনসংযোগ কর্মসূচি সফল করতে ময়দানে নেমেছেন একঝাঁক দাপুটে নেতা। অখিল গিরি, উত্তম বারিক, সুপ্রকাশ গিরি থেকে শুরু করে সৌমেন মহাপাত্র, নিরঞ্জন মান্না ও রবিন মণ্ডলের কাঁধে বর্তেছে এই দায়িত্ব।

"আমরা কেবল প্রতিশ্রুতি দিই না, কাজ করে দেখাই। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তার প্রমাণ। আর গত ১৫ বছরে বাংলায় কী উন্নয়ন হয়েছে, তা আমরা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।" — জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

পর্যবেক্ষকদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুরে যেখানে শুভেন্দু অধিকারীর দাপট বরাবরই তৃণমূলের চিন্তার কারণ, সেখানে মহিলা ভোটকে সংহত করা এবং সমাজের মগজাস্ত্রে শান দেওয়া— এই দ্বিমুখী কৌশলেই ‘হলুদ গড়ে’ ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া কালীঘাট।


No comments