নিজস্ব সংবাদদাতা, তমলুক: মেদিনীপুরের মাটি বরাবরই সরকার-বিরোধী হাওয়ার আঁতুড়ঘর। বাম জমানায় এই জেলাই প্রথম ঘাসফুল শিবিরের দিকে ঝুঁকে পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল। আর এখন, দীর্ঘ তৃণমূল শাসনে সেই জেলাতেই জমাট বেঁধেছে তীব্র প্রতিষ্ঠান-বিরোধ…
নিজস্ব সংবাদদাতা, তমলুক: মেদিনীপুরের মাটি বরাবরই সরকার-বিরোধী হাওয়ার আঁতুড়ঘর। বাম জমানায় এই জেলাই প্রথম ঘাসফুল শিবিরের দিকে ঝুঁকে পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল। আর এখন, দীর্ঘ তৃণমূল শাসনে সেই জেলাতেই জমাট বেঁধেছে তীব্র প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া।
কখনও পুলিশের বিরুদ্ধে অতি-সক্রিয়তা, আবার কখনও ‘দলদাসে’র তকমা— জনমানসে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। সেই হারানো জমি ফিরে পেতে এবার অভিনব কৌশল নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। লাঠি-বন্দুক সরিয়ে রেখে পুলিশ এখন নামছে খেলার মাঠে।
ময়নার বাকচা থেকে খেজুরি— রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমাবাজি আর খুনের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের সাক্ষী এই জনপদগুলি। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এই দীর্ঘস্থায়ী সন্ত্রাস সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের প্রতি একটা ভয়ের দেওয়াল তুলে দিয়েছে। সেই দেওয়াল ভাঙতে অস্ত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ক্রিকেট ও ফুটবলকে।
ময়নার বাকচায় প্রথম ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে এই জনসংযোগের সূচনা হয়। এরপর একে একে খেজুরি, এগরা, পটাশপুর, দিঘা হয়ে রবিবার মহিষাদলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের এই মৈত্রী ম্যাচ সম্পন্ন হলো।
জেলার একটি বড় অংশের অভিযোগ, অহেতুক ‘মুসলিম তোষণ’ ও একপেশে পুলিশি সক্রিয়তার জেরে ক্ষোভ বাড়ছে জনমানসে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজনৈতিক সমীকরণে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ক্ষোভের সুযোগ নিয়ে বিরোধী শিবির তথা বিজেপি এই জেলায় জমি শক্ত করছে।
পরিস্থিতি আঁচ করেই জেলা পুলিশ এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অবিচল। সম্প্রতি এগরার একটি খাওয়ার দোকানে অশান্তির ঘটনায় যেমন হিন্দুদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনই হলদিয়ার একটি মসজিদে গোলমালের ঘটনায় ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মুসলিম যুবকদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। বার্তা স্পষ্ট— অপরাধীর কোনও ধর্ম বা দল নেই।
জেলা পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে-র কথায়, “আমরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইছি। অনেক দুর্গম ও রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর এলাকা আছে যেখানে পুলিশের প্রতি মানুষের ভয় কাজ করে। আমরা চাই সেই ভীতি দূর করতে।"
পুলিশ সুপারের সংযোজন, "অপরাধীদের জন্য আমরা যেমন কঠোর, সাধারণ মানুষের জন্য তেমনই ভরসার জায়গা হতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাজনৈতিক বা জাতিগত হিংসা শিশুদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। আমরা চাই না কোনও শৈশব নষ্ট হোক। তাই নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গেও সাধারণ মানুষের একটা নিবিড় বন্ডিং তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য।”
শুভেন্দু অধিকারী বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, এই জেলাই আগামী দিনে রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। এই আবহে প্রশাসনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখাটা রাজনৈতিক ভাবেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যদিও বিরোধীদের একাংশ পুলিশের এই সদিচ্ছাকে ‘তৃণমূলের ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। তবে সমালোচনায় কান দিতে নারাজ পুলিশ সুপার। তাঁর সাফ জবাব, “আমরা আইন ও আদালতের কাছে দায়বদ্ধ। কে কী সমালোচনা করল, তাতে আমাদের কাজ থেমে থাকবে না।”
বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে জেলা পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই একটি টোল-ফ্রি নম্বর এবং কুইক রেসপন্স হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হয়েছে। ভোট হোক বা উৎসব— কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না বলেই কড়া বার্তা দিয়েছে জেলা পুলিশ।#
PurbaMedinipurPolice #WestBengalPolice #CommunityPolicing #PublicTrust #MissionImageMakeover #PolicePublicBonding #NewzBangla #PurbaMedinipur

No comments