​বাসর জাগার আগেই কালনাগিনীর ছোবল! 'বেহুলা'র জেদে যমরাজকে ফিরিয়ে ছাদনাতলায় লখিন্দর ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

​বাসর জাগার আগেই কালনাগিনীর ছোবল! 'বেহুলা'র জেদে যমরাজকে ফিরিয়ে ছাদনাতলায় লখিন্দর !

নিউজবাংলা, বর্ধমান: এ যেন একবিংশ শতকের ‘বেহুলা-লখিন্দর’। তবে প্রেক্ষাপট প্রাচীন চম্পকনগরী নয়, বরং বর্ধমানের ভাতার। বিয়ের পিঁড়িতে বসার ঠিক আগেই হবু বরের পায়ে দাঁত বসিয়েছিল বিষধর চন্দ্রবোড়া। কিন্তু প্রেমের টান আর জেদের কাছে হার মান…

 


নিউজবাংলা, বর্ধমান: এ যেন একবিংশ শতকের ‘বেহুলা-লখিন্দর’। তবে প্রেক্ষাপট প্রাচীন চম্পকনগরী নয়, বরং বর্ধমানের ভাতার। বিয়ের পিঁড়িতে বসার ঠিক আগেই হবু বরের পায়ে দাঁত বসিয়েছিল বিষধর চন্দ্রবোড়া। কিন্তু প্রেমের টান আর জেদের কাছে হার মানল যমদূতও। হাসপাতালের বেড আর বিয়ের মণ্ডপের মধ্যে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল মঙ্গলকোট এবং ভাতার।

​রবিবার বিকেলে বীরভূমের লাভপুর থেকে বরযাত্রী নিয়ে ভাতারের মুরাতিপুরের উদ্দেশ্যে আসছিলেন ওই যুবক। পথে লোচনদাস সেতুর কাছে গাড়ি থামিয়ে একটু পায়চারি করতে নেমেছিলেন তিনি। ঝোপের আড়াল থেকে আচমকাই ছোবল মারে এক বিষধর সাপ। পায়ে তীব্র জ্বালা অনুভব করতেই যুবক দেখেন, সাপের কামড়ের ক্ষত স্পষ্ট। মুহূর্তে আনন্দোৎসব বদলে যায় আতঙ্কে।

​দ্রুত যুবককে নিয়ে যাওয়া হয় মঙ্গলকোট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরীক্ষা করে চিকিৎসক জানিয়ে দেন, সাপটি অত্যন্ত বিষধর। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু তখন বিয়ের লগ্ন বয়ে যাচ্ছে। একদিকে বিষের যন্ত্রণা, অন্যদিকে কনের বাড়িতে কান্নার রোল। এই সঙ্কটকালেই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন কর্তব্যরত চিকিৎসক। যুবকের মনের জোর দেখে তিনি বলেন,

“প্রাথমিক চিকিৎসা হয়েছে। আমি আপনাকে আধ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে বিয়ে সেরে দ্রুত হাসপাতালে ফিরে আসতে হবে।”-কর্তব্যরত চিকিৎসক

​টোপড় মাথায় দিয়ে বিষের জ্বালা সয়েই মণ্ডপে পৌঁছান লখিন্দররূপী সেই যুবক। দ্রুত সম্পন্ন হয় মালাবদল ও সিঁদুরদান। চার হাত এক হতেই নবপরিণীতা স্ত্রীকে বাসর ঘরে রেখে যুবক আবার ফিরে যান হাসপাতালের বেডে। সারারাত বাসর ঘরের আনন্দ নয়, বরং স্বামীর প্রাণভিক্ষা চেয়ে প্রার্থনা চালিয়ে যান নববধূ।

​অবশেষে মিরাকল! বর্ধমান মেডিকেল কলেজে একদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, যুবক এখন সম্পূর্ণ বিপন্মুক্ত। মঙ্গলবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার খবর আসতেই মুরাতিপুরে শুরু হয় উৎসব। স্বামীর হাত ধরে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় কনের মুখে তখন তৃপ্তির হাসি।

​স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, চন্দ্রবোড়ার কামড় খেয়েও যে ভাবে মনের জোরে বিয়ে সম্পন্ন করে সুস্থ হয়ে ফিরলেন ওই যুবক, তা ভালোবাসার জয় ছাড়া আর কিছু নয়। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সময় ডিজে বক্সে তখন বাজছে— ‘পারবে না কেউ তোমার আমার মাঝে দেয়াল তুলে দিতে...’। সেই গানের তালে পা মেলাতে দেখা গেল আধুনিক যুগের এই ‘বেহুলা’কে।

​বইয়ের পাতায় পড়া লখিন্দরের বেঁচে ফেরার গল্প যে আজও বাস্তবের মাটিতে সম্ভব, মঙ্গলকোটের স্বাস্থ্যকেন্দ্র আর ভাতারের মুরাতিপুর গ্রাম আজ তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

No comments