নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়া দিল্লি: শৈশব কি তবে ফিরবে খেলার মাঠে? স্মার্টফোনের নীল আলোয় বন্দি কৈশোরকে মুক্ত করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারত সরকার। ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য দেশে সোশ্যাল মিডিয়া বা সমাজমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার চ…
নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়া দিল্লি: শৈশব কি তবে ফিরবে খেলার মাঠে? স্মার্টফোনের নীল আলোয় বন্দি কৈশোরকে মুক্ত করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারত সরকার। ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য দেশে সোশ্যাল মিডিয়া বা সমাজমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে সাউথ ব্লকে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই জল্পনা তীব্র হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, ডিজিটাল দুনিয়ায় নাবালকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই উদ্বিগ্ন সরকার। বিশেষ করে ‘ডিপ ফেইক’ এবং বয়স অনুপযুক্ত কনটেন্ট যেভাবে কিশোর-কিশোরীদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তা রুখতেই এই কঠোর অবস্থান। বর্তমানের ‘ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন’ আইন সংশোধন করে আরও কড়া বিধিনিষেধ আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক।
দিল্লির অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার) বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূলত দু’টি পথ খোলা রাখা হচ্ছে:
- সরাসরি নিষেধাজ্ঞা: নির্দিষ্ট কিছু সমাজমাধ্যম ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
- পৃথক লগ-ইন ব্যবস্থা: ওটিটি এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে সাবালক ও নাবালকদের জন্য আলাদা লগ-ইন বা ‘ফিল্টার্ড’ ফিড রাখা।
ভারতই প্রথম নয়, এর আগে অস্ট্রেলিয়া এই পথে হেঁটেছে। আইন অমান্য করলে সেখানে সংস্থাকে ৩ কোটি ডলার পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে। ফ্রান্স ও স্পেনে অভিভাবকদের সম্মতি বাধ্যতামূলক। চিনে আবার চালু হয়েছে ‘মাইনর কোড’, যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর অ্যাপ নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। ভারতের গোয়া-সহ বেশ কিছু রাজ্য অবশ্য আংশিক নিয়ন্ত্রণের বদলে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পক্ষেই সওয়াল করেছে।
শুধুমাত্র অ্যাপের ভেতরে নয়, ডাউনলোডের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করার কথা ভাবছে মন্ত্রক। ১৬ বছর বয়স না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী যাতে নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোডই করতে না পারেন, সেই প্রযুক্তিগত দিকটি নিয়ে গুগল বা অ্যাপল-এর মতো সংস্থাগুলির সঙ্গেও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ডিজিটাল ভারতে এই ‘ভার্চুয়াল লক্ষ্মণরেখা’ টানা কতটা সম্ভব হবে? নাকি ভিপিএন-এর মতো চোরাপথে সেই নিষেধাজ্ঞার জাল কেটে বেরিয়ে যাবে আজকের ‘টেক-স্যাভি’ প্রজন্ম? উত্তর দেবে সময়ই।

No comments