নিউজবাংলা, কোলাঘাট : তমলুকেররেশকাটতেনাকাটতেইএবারপ্রায়একইকায়দায়ভোটারতালিকাথেকেনামবাদদেওয়ারচক্রান্তেরঅভিযোগ (WBSIR2026) উঠলকোলাঘাটে।শতাধিকজীবিতভোটারকে ‘মৃত’ দেখিয়েনামবাদদেওয়ারচেষ্টারঅভিযোগেগতমঙ্গলবারইতমলুকেরএকবিজেপিনেতাগ্রেফতারহয়েছ…
নিউজবাংলা, কোলাঘাট : তমলুকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রায় একই কায়দায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ (WBSIR2026) উঠল কোলাঘাটে। শতাধিক জীবিত ভোটারকে ‘মৃত’ দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গত মঙ্গলবারই তমলুকের এক বিজেপি নেতা গ্রেফতার হয়েছেন।
এবার সেই একই অভিযোগ উঠল কোলাঘাট ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি মনোজ পাত্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এলাকার একাধিক জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ এবং প্রাক্তন পুলিশ কর্মীকে ‘বিদেশি’ সাজিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে ফর্ম-৭ জমা দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের গোপালনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোলাঘাটের কেশাই গ্রামের বেশ কিছু জীবিত ভোটারকে ‘মৃত’ দাবি করে এবং বাথানবেড়িয়া গ্রামের ৫ জন ভোটারকে ‘অভারতীয়’ বা বিদেশি দাবি করে ফর্ম-৭ জমা দিয়েছেন বিজেপি নেতা মনোজ পাত্র। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মনোজবাবু নিজে ওই এলাকা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের বাসিন্দা। বহিরাগত হয়েও তিনি কীভাবে ওই ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য পেলেন এবং কেন এমন অভিযোগ করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
বাথানবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আজিজুল হোসেন পেশায় একজন পুলিশ কর্মী। দীর্ঘ দিন রাজ্য পুলিশে কর্মরত রয়েছেন তিনি। অথচ মনোজ পাত্রের জমা দেওয়া ফর্মে দাবি করা হয়েছে, আজিজুল সাহেব নাকি ভারতীয় নাগরিক নন!
ক্ষুব্ধ আজিজুল বলেন, "বিএলও হঠাৎ বাড়িতে এসে জানালেন আমার বিরুদ্ধে মনোজ পাত্র নামের একজন অভিযোগ করেছেন যে আমি ভারতীয় নই। অথচ আমি সরকারি কর্মচারী। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড থেকে শুরু করে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা— সব নথিতেই আমার নাম আছে। যারা এমন ভুয়ো অভিযোগ করে মানুষকে হেনস্থা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?"
একই অবস্থা কেশাই গ্রামের ৫০ বছর বয়সী এক ভোটারের। তিনি জানান, বিএলও মারফত তিনি জানতে পেরেছেন যে তাঁকে খাতায়-কলমে ‘মৃত’ ঘোষণা করে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
৯৫ নম্বর পার্টের বুথ লেভেল অফিসার (BLO) শুভাশীষ মাজি জানিয়েছেন, "আমার কাছে ৫ জনের নামে মনোজ পাত্রের জমা দেওয়া অভিযোগ এসেছিল। তদন্তে এসে দেখলাম সকলেই এলাকার পুরনো ভোটার এবং প্রত্যেকেই জীবিত। তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত বৈধ নথি রয়েছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছি।"
অভিযুক্ত বিজেপি নেতা মনোজ পাত্র অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, "আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার নাম এবং ভোটার নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ এই কাজ করেছে কি না বুঝতে পারছি না।" অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা সেক সাহ আলম বলেন, "সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করার চক্রান্ত করছে আরএসএস ও বিজেপি। আমরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছি।"
যদিও কোলাঘাট ব্লকের বিডিও অমিত কুমার চন্দ্র এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য বজায় রয়েছে।

No comments