নিউজবাংলা, ময়না: এখনও বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। তার আগেই ফের রাজনৈতিক (Moyna) রক্তক্ষরণের অভিযোগ উঠল পূর্ব মেদিনীপুরে। ময়নার সুদামপুরে এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।বৃহস্পতি…
নিউজবাংলা, ময়না: এখনও বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। তার আগেই ফের রাজনৈতিক (Moyna) রক্তক্ষরণের অভিযোগ উঠল পূর্ব মেদিনীপুরে। ময়নার সুদামপুরে এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির অদূরেই একটি পুকুর থেকে সুব্রত অধিকারী (৩৩) নামে ওই যুবকের দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, তাঁকে অপহরণ করে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ময়না থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে পরিবারের দাবী।
গোটা ঘটনার নেপথ্যে শাসকদলের হাত রয়েছে বলে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।সুব্রতবাবু বিজেপির ১৯৪ নম্বর বুথের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাতে বাড়ি থেকে সামান্য দূরে একটি পিকনিকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সোমবার ময়না থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করে পরিবার। অবশেষে বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির কাছের পুকুরে তাঁর দেহ ভেসে ওঠে।
ছেলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা কাজল অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, “রবিবার রাত থেকে ছেলে নিখোঁজ ছিল। আজ পুকুরে দেহ মিলল। ছেলেকে খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”
এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জেলা পুলিশের ওপর চাপ বাড়িয়েছে গেরুয়া শিবির। ময়নার বিজেপি নেতা সুজিত বেরা বলেন, “সুব্রত আমাদের সক্রিয় কর্মী ছিল। চার দিন ধরে জলে দেহ থাকলে তাতে পচন ধরার কথা, কিন্তু দেহটি দেখে তেমন মনে হচ্ছে না। ওর মোবাইল ফোনটাই বা কোথায় গেল? এর আগে ওকে অপহরণ করে মহিষাদলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছিল। ভোটের মুখে আমাদের কোণঠাসা করতেই এই চক্রান্ত। পুলিশ সব দেখেও নিষ্ক্রিয়।”
যদিও বিজেপি-র তোলা খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, এটি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু, তা পুলিশ তদন্ত করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুদামপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।


No comments