নিউজবাংলা, কোলাঘাট : ভোটার তালিকায় নাম নেই। তার ওপর দোসর হয়েছে ‘এসআইআর’ (SIR2026) বা ভোটার তালিকা যাচাইয়ের আতঙ্ক। নথিপত্র হাতে নিয়ে সরকারি দপ্তরে ঘুরেও মেলেনি সুরাহা। শেষ পর্যন্ত সেই উৎকণ্ঠা আর দুশ্চিন্তাই প্রাণ কাড়ল পূর্ব মেদিনী…
নিউজবাংলা, কোলাঘাট : ভোটার তালিকায় নাম নেই। তার ওপর দোসর হয়েছে ‘এসআইআর’ (SIR2026) বা ভোটার তালিকা যাচাইয়ের আতঙ্ক। নথিপত্র হাতে নিয়ে সরকারি দপ্তরে ঘুরেও মেলেনি সুরাহা। শেষ পর্যন্ত সেই উৎকণ্ঠা আর দুশ্চিন্তাই প্রাণ কাড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের এক বৃদ্ধের।
সোমবার সকালে তমলুকের তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হয় কোলাঘাট থানার বরনান গ্রামের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় সরকারের (৭৩)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এনআরসি ও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের জেরেই এই মৃত্যু। যদিও বিজেপি একে ‘বার্ধক্যজনিত মৃত্যু’ বলে দাবি করেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের শান্তিপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বরনান গ্রামের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয়বাবুর এক ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলে মন্টু সরকার পেশায় শ্রমিক। পরিবারটির দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার পর থেকেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল ওই বৃদ্ধের। গত ৪ জানুয়ারি শহিদ মাতঙ্গিনী বিডিও অফিসে তাঁকে শুনানির (Hearing) জন্য ডাকা হয়। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেই ভাইপো বিশ্বজিৎ সরকারের সঙ্গে ব্লক অফিসে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ১৯৭১ সালের দলিল দেখালেও আধিকারিকরা তা গ্রহণ করতে চাননি বলে অভিযোগ।
মৃতের ছেলে মন্টু সরকার বলেন, “বাবা ১৯৭১ সালের দলিল দেখিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা গ্রাহ্য হয়নি। তারপর থেকেই বাবা সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতেন। সব সময় বলতেন, আমাদের কি দেশ ছাড়তে হবে? সেই চিন্তাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।” পরিবার সূত্রের খবর, রবিবার রাতে হঠাৎই বুকে ব্যথা শুরু হয় মৃত্যুঞ্জয়বাবুর। তড়িঘড়ি তাঁকে তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোলাঘাটে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি পরিকল্পিতভাবে মানুষের মনে ভীতি তৈরি করছে। নথিপত্র নিয়ে এই টানাপড়েনই বৃদ্ধের মৃত্যুর কারণ। পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি-ও। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক তাপস পাত্র বলেন, “তৃণমূল অহেতুক রাজনীতি করছে। ওই বৃদ্ধ বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গিয়েছেন। এর সঙ্গে ভোটার তালিকা বা রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।”
প্রশাসনের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ একটি রুটিন প্রক্রিয়া। তবে এই ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে শান্তিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
#JusticeForMritunjaySarkar #KolaghatNews #VoterListAnxiety#SIRPanic #BengalPolitics #NewzBangla

No comments