নিউজবাংলা, কলকাতা: পুড়ে খাক বসতবাড়ি, দাউদাউ আগুনে ছাই হয়ে গিয়েছে শেষ সম্বলটুকুও। আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তপ্ত রাজনীতির ময়দান। বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর…
নিউজবাংলা, কলকাতা: পুড়ে খাক বসতবাড়ি, দাউদাউ আগুনে ছাই হয়ে গিয়েছে শেষ সম্বলটুকুও। আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তপ্ত রাজনীতির ময়দান। বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলেন বিজেপির প্রতিনিধি দল। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি মৃত ও নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী নেতৃত্ব।
‘মানুষের মৃত্যু নয়, খুন’
এ দিন নাজিরাবাদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটার দূরে যেখানে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বিজেপি নেতারা। পুড়ে যাওয়া এলাকা দেখে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং ‘ম্যান-মেড’ বা প্রশাসনিক গাফিলতির ফল। তাঁদের অভিযোগ, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি (ইকেডব্লিউ) এলাকায় কোনওরকম অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা ‘এনওসি’ ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে বেআইনি গুদাম ও কারখানা চলছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই দুর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
শোকাতুর পরিবারের পাশে
বিধায়করা এ দিন কথা বলেন স্বজনহারা পরিবারগুলির সঙ্গে। প্রিয়জন হারানো মানুষের আর্তনাদ ও নিখোঁজদের জন্য অপেক্ষায় থাকা পরিজনদের চোখে জল দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তাঁরা। শুভেন্দুর কথায়, “এই দুঃখ প্রকাশের ভাষা নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আমরা আছি। তাঁদের লড়াই, পুনর্বাসন এবং ন্যায্য বিচারের দাবিতে বিজেপি আমরণ সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।”
কাঠগড়ায় শাসকদল ও নবান্ন
এ দিন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে বিজেপি নেতৃত্ব জানান:
- নিয়ম লঙ্ঘন: জলাভূমি এলাকায় বেআইনি ভাবে গড়ে ওঠা গুদামগুলিতে কোনও অডিট বা ফায়ার সেফটি নেই।
- ভয়াবহ গাফিলতি: শাসকদলের মদতে চলা এই ‘বেআইনি সাম্রাজ্য’ই এই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ।
- মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি: ট্র্যাজেডির কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন তাঁরা।
বিজেপির প্রতিনিধি দলের স্পষ্ট বার্তা, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং এই ঘটনার পিছনে থাকা আসল অপরাধীদের আড়াল না করে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

No comments