নিউজ বাংলা, হলদিয়া : শীতের আমেজ গায়ে মেখে রবিবার ভোরের আলো ফুটতেই এক অন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকল হলদিয়া। চিরাচরিত সাইরেন বা কলকারখানার যান্ত্রিক শব্দ নয়, এদিন শিল্পনগরীর রাজপথ মুখরিত হলো হাজার হাজার মানুষের পদধ্বনিতে। ইন্ডিয়ান অয়েল …
নিউজ বাংলা, হলদিয়া : শীতের আমেজ গায়ে মেখে রবিবার ভোরের আলো ফুটতেই এক অন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকল হলদিয়া। চিরাচরিত সাইরেন বা কলকারখানার যান্ত্রিক শব্দ নয়, এদিন শিল্পনগরীর রাজপথ মুখরিত হলো হাজার হাজার মানুষের পদধ্বনিতে। ইন্ডিয়ান অয়েল হলদিয়া রিফাইনারির ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজিত হলো ‘সের্ভো হলদিয়া ম্যারাথন ২০২৬’। আর সেই ম্যারাথনকে কেন্দ্র করেই এদিন আক্ষরিক অর্থেই এক মিনি ভারতবর্ষের প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ল হলদিয়ার বুকে।
এদিন সকালে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২১ কিমি, ১০ কিমি এবং ৫ কিমি—এই তিন বিভাগের দৌড়ের সূচনা করেন হলদিয়া রিফাইনারির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর (টেকনিক্যাল) এস কে দাস। সঙ্গে ছিলেন ইন্ডিয়ান অয়েলের পদস্থ আধিকারিক মনোজ কুমার শর্মা, বঙ্কিম বিহারী পাত্র, অনুরাগ সচদেব এবং কোস্ট গার্ডের ডিআইজি আনোয়ার খান। পতাকা নেড়ে দৌড় শুরু হতেই হলদিয়ার রাস্তা যেন এক নীল সমুদ্রে পরিণত হয়।
রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের ম্যারাথনে তিন হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। কেবল স্থানীয় বাসিন্দা বা রিফাইনারির কর্মীরাই নন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পেশাদার ও শৌখিন দৌড়বিদরা এই উৎসবে শামিল হন। শিল্প, শিক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটাতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিন দৌড় শেষে এস কে দাস বলেন, “এই ম্যারাথন কেবল একটি খেলা নয়, এটি মানুষের অদম্য মানসিকতা এবং ঐক্যের উদযাপন। হলদিয়া রিফাইনারি গত ৫০ বছর ধরে দেশের সেবা করে আসছে। এই সুবর্ণ জয়ন্তী লগ্নে আমাদের লক্ষ্য হলো একটি সুস্থ ও সবল সমাজ গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা দেওয়া।”
পুরো পথজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। জলের পয়েন্ট থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স—সব মিলিয়ে আয়োজনে কোনও খামতি রাখেনি কর্তৃপক্ষ। সুবর্ণ জয়ন্তীর এই বিশেষ মাইলফলকে দাঁড়িয়ে শিল্পশহর বার্তা দিল—হলদিয়া শুধু উৎপাদন করতেই জানে না, সুস্থ থাকতে দৌড়তেও জানে।
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্ত :



No comments