নিউজবাংলা, পুরুলিয়া: হাড়কাঁপানো শীতের কামড়ে কার্যত জবুথবু গোটা জেলা। কিন্তু রবিবারের সকাল ঝালদাবাসীর কাছে নিয়ে এল এক অভাবনীয় বিস্ময়। চেনা বাঁকুড়া বা পুরুলিয়ার লালমাটি নয়, ভোরে প্রাতর্ভ্রমণকারীরা (PuruliaSnowFall) দেখলেন খড়ের গ…
নিউজবাংলা, পুরুলিয়া: হাড়কাঁপানো শীতের কামড়ে কার্যত জবুথবু গোটা জেলা। কিন্তু রবিবারের সকাল ঝালদাবাসীর কাছে নিয়ে এল এক অভাবনীয় বিস্ময়। চেনা বাঁকুড়া বা পুরুলিয়ার লালমাটি নয়, ভোরে প্রাতর্ভ্রমণকারীরা (PuruliaSnowFall) দেখলেন খড়ের গাদার উপর বিছিয়ে রয়েছে সাদা তুষারের পাতলা আস্তরণ। পর্যটকদের জন্য যা বিনোদন, স্থানীয়দের কাছে তা এক বিরল ও অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, স্থানীয়দের অনেকেই ঠাট্টা করে বলছেন, "বরফ দেখতে আর কাশ্মীর যাওয়ার দরকার নেই, ঝালদাই এখন পাহাড়ের আমেজ দিচ্ছে।"
রবিবার সকালে ঝালদা থেকে খামার যাওয়ার রাস্তার ধারে প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। তখনই তাঁদের চোখে পড়ে রাস্তার ধারের খড়ের গাদাগুলি ধবধবে সাদা হয়ে আছে। প্রথমে শিশির মনে হলেও, কাছে গিয়ে হাত দিতেই মালুম হয়— ওটা আসলে জমে যাওয়া বরফ। মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর চাউর হতেই ভিড় উপচে পড়ে এলাকায়। শুধু ঝালদা নয়, দিন দুয়েক আগে বান্দোয়ান ব্লকের ডাঙ্গা এলাকাতেও একই ভাবে মাটির উপর সাদা আস্তরণ দেখা গিয়েছিল।
২০২৫-এর শেষ সপ্তাহ
থেকেই জাঁকিয়ে শীত পড়েছে জঙ্গলমহলে। বাঁকুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রির আশেপাশে
ঘোরাফেরা করলেও পুরুলিয়ায় পারদ পতন আরও ত্বরান্বিত।
·
পুরুলিয়া
শহর: ৫ থেকে ৬
ডিগ্রি সেলসিয়াস।
·
বান্দোয়ান
ও ঝালদা: পাহাড়ি এলাকায় মাঝেমধ্যেই তাপমাত্রা নামছে হিমাঙ্কের কাছাকাছি।
বিশেষজ্ঞদের
মতে, ভৌগোলিক অবস্থান ও পাথুরে ভূমির
কারণে এই সব এলাকায়
'রেডিয়েশন কুলিং'-এর প্রভাবে ঘাসের
ডগায় বা খড়ের ওপর
থাকা জলবিন্দু জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে, যাকে চলতি ভাষায় অনেকে 'তুষারপাত' হিসেবেই দেখছেন।
“খামার গ্রামের বাসিন্দা ঠাকুরদাস মাহাতোর কথায়, "সকালে হাঁটতে বেরিয়ে দেখি খড়ের গাদায় সাদা সাদা আস্তরণ। শিশির তো এমন হয় না! কাছে গিয়ে হাতে তুলে বুঝলাম ওটা আসলে বরফ। দারুণ ব্যাপার, আমরা দারুণ উপভোগ করছি।" অন্যদিকে ঝালদার বাসিন্দা বিমল কুইরির সহাস্য মন্তব্য, "যা ঠান্ডা পড়েছে, তাতে আমাদের এলাকায় বরফ জমে যাচ্ছে। রাজ্যের মানুষকে আর কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে কাশ্মীর যেতে হবে না। ঝালদাতেই কাশ্মীরের আনন্দ মিলছে!"
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, জানুয়ারি মাসের এই দ্বিতীয় সপ্তাহেও কনকনে ঠান্ডার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী কয়েক দিন পশ্চিমের জেলাগুলিতে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। ফলে পুরুলিয়ার গ্রামে গ্রামে আগামী ক’দিন এমন 'তুষার-বিস্ময়' আরও দেখা যেতেই পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
#Purulia #Jhalda #PuruliaDiaries #JungleMahal #WestBengalWinter #Bandwan #NewzBangla
তথ্যসূত্র- আনন্দবাজার.কম
No comments