Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

সাক্ষাৎ যমদূত, অপহরণের পর কিডনী খুবলে শতাধিক মানুষকে কুমিরের পেটে চালান করেছে এই ভারতীয় চিকিৎসক !

নিউজ বাংলা ডেস্ক : সাক্ষাৎ যমদূত চাক্ষুস করেছেন কখনও? সমাজে যারা ভগবানের আসনে থাকে তারাই যদি এমন শয়তান হয়... না না যমদূত হয় তাহলে কি করবেন ? ধরুন চিকিৎসার জন্য গেলেন আর চিকিৎসক আপনাকে খুন করে কিডনি লোপাট করে দিল শরীর থেকে।তারপর আ…

নিউজ বাংলা ডেস্ক :  সাক্ষাৎ যমদূত চাক্ষুস করেছেন কখনও?  সমাজে যারা ভগবানের আসনে থাকে তারাই যদি এমন শয়তান হয়... না না যমদূত হয় তাহলে কি করবেন ? ধরুন চিকিৎসার জন্য গেলেন আর চিকিৎসক আপনাকে খুন করে কিডনি লোপাট করে দিল শরীর থেকে।

তারপর আপনার অস্তিত্ব যাতে কেউ না খুঁজে পায় তারজন্য কুমিরের খাদ্য হিসেবে আপনাকে ছুঁড়ে ফেলা হল কুমির ভর্তি জলাশয়ে। উত্তরপ্রদেশ আলিগড়ের বছর ষাটের এমনই এক শল্যচিকিৎসক দেবেন্দর শর্মার জীবনপঞ্জিকা ঘেটে তাজ্জব দুঁদে পুলিশ অফিসারেরা।

সালটা ১৯৮৪, আয়ুর্বেদ মেডিসিন ও সার্জারিতে ব্যাচেলর দেবেন্দর শর্মা রাজস্থানের জয়পুরে নিজের ক্লিনিক খুলেছিল। রোজকার জীবনে বাড়তি আয়ের জন্য সে ১৯৯২ সালে একটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডিলারশিপ নেয়।

স্কিম প্রদানকারী সংস্থার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা খুইয়ে ছিল সে। এরপর টাকার নেশায় কিডনি পাচার চক্রের সাথে যোগ দেয় সে। যেখানে কম খাটুনি আর অল্প সময়ে বেশি টাকা পাওয়া যেত। প্রতিবেশীদের সন্দেহ এড়াতে ভুয়ো গ্যাস ডিলারশিপ খুলে বসে নিজের গ্রামে। ধীরে ধীরে রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লির মত এলাকাতে কিডনি পাচার চক্রের মূল মাথা হয়ে উঠেছিল সে।

এই চক্রে একাধিকজনের দায়িত্ব থাকত বিভিন্ন রকম। কেউ খোঁজ করত কিডনি গ্রহীতার, কেউ করত অপহরণ আবার কেউ দেবেন্দরের মতোই পটু শল্যচিকিৎসক। কিডনি সংগ্রহ থেকে প্রতিস্থাপন পুরো কাজের জন্য ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পেত সে। ১৯৯৪-২০০৪ সালের মধ্যে কমবেশি ১২৫টি কিডনি প্রতিস্থাপনের কাজ করেছে দেবেন্দর।

এই কিডনিচক্রের পাশাপাশি ট্যাক্সি, এলপিজি ট্রাক চুরি করত টিমের লোকেদের দিয়ে। নানা অছিলায় গাড়িতে উঠে ফাঁকা জায়গার নাম বলে সেখানে নিয়ে যাওয়া তারপর খুন করে দেহ থেকে কিডনি বের করার পরে দেহটি কাশিগঞ্জ এলাকার হাজারা খালে ফেলে দেওয়া।

একদম নিখুঁত ভাবেই চলত অপারেশন। মৃতের তথ্যপ্রমাণ লোপাটে কার্যকরী ভূমিকায় থাকত কুমির। হাজারার খাল কুমির ভর্তি সেখানে এরকম খাদ্য পড়লে যে কিছুই আস্ত থাকবেনা তা নিশ্চিত। আর ট্রাকের ক্ষেত্রেও সামান্য লিফট চেয়ে ট্রাকে উঠতে পারলেই চ্যাপ্টার ক্লোজ।

ট্যাক্সিগুলি বিক্রি করা হত কিডনি চক্রীদের মধ্যেই আর এলপিজি ট্রাকগুলি মিরাটে বিক্রি হত। এলপিজি গ্যাসগুলি পৌঁছে যেত দেবেন্দরের ভুয়ো গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কেন্দ্রে। ৫০ এরপর কটা এমন করেছি গুনিনি, চমকে উঠল দুঁদে অফিসাররা।

কোনো ক্রাইম থ্রিলারের গল্প না বাস্তব সেটা বুঝতে কিছুটা সময় লাগল বৈকি। অথচ বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের যা অভিযোগ তাতে একশোর বেশি খুন করেছে দেবেন্দর, এমনটাই পুলিশের অনুমান। যদিও আদালতে প্রমাণ রয়েছে সাতটি ঘটনার।

২০০৪ সালে গ্রেফতারের পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাকে। সম্প্রতি জানুয়ারিতে ২০ দিনের জন্য প্যারোলে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই প্যারোল সীমা পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি তার। পরে জানা যায়, দিল্লির বাপরোলায় সম্পত্তি দালালীর ব্যবসা করছে সে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে। সেখানে তিনি এক বিধবা মহিলাকে বিয়েও করেন। উক্ত মহিলা পুলিশের জেরায় জানান, দেবেন্দ্র এর অতীত সম্পর্কে তার কোন কিছুই অজানা নয়। তাহলে এরকম একজনকে বিয়ে করার কি কারণ সেই তথ্য জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

তথ্যসূত্র- ২৪ঘন্টা

#newzbangla #NationalNews #bengalinews #নিউজবাংলা #newsbangla #CrimeNews


মোবাইলে আরও নিউজ আপডেট পেতে এইখানে ক্লিক করুন - Whatsapp



No comments