Newz Bangla : প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। ঘুষ ও তোলাবাজির অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিকেল ইনস্পেক্টরকে (MVI) সাময়…
Newz Bangla : প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। ঘুষ ও তোলাবাজির অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিকেল ইনস্পেক্টরকে (MVI) সাময়িকভাবে বরখাস্ত (Suspended) করা হল। সেই সঙ্গে পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ACB)-র হাতে।
নবান্ন সূত্রের খবর, সরকারের স্পষ্ট বার্তা— আইনের উর্ধ্বে কেউ নন। দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই বরখাস্ত করা হবে না।
ঘটনার নেপথ্যে কি?
অভিযোগ, সম্প্রতি পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে ঝাড়খণ্ডমুখী বা ঝাড়খণ্ড রেজিস্টার্ড একটি পণ্যবাহী ট্রাক (যার নম্বর JH09BA3535) বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ ওঠে, চালককে হয়রানি করে ঘুষের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন কর্তব্যরত আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকার কর্তৃক ইতিমধ্যেই রদ বা বিলুপ্ত করা একটি করের (Tax) নাম করে বেআইনিভাবে ২২,০০০ টাকা দাবি করার গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ে পরিবহন দফতরে।
ঘটনাক্রম প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করে রাজ্য পরিবহন দফতর। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরপরই মোটর ভেহিকেল ইনস্পেক্টর নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়— এই দুজনকেই রাজ্য পরিষেবা বিধি (West Bengal Services Rules, 1971-এর Rule 7(1)(a)) অনুযায়ী অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। পরিবহন দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ড. রবি ইন্দর সিং এই বরখাস্তের নির্দেশপত্রে স্বাক্ষর করেন।
ফৌজদারি তদন্ত ও কড়া নির্দেশ
বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে এটিকে কেবল বিভাগীয় শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা উদ্ঘাটন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য পুরো বিষয়টি সরাসরি অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ACB)-র কাছে ফৌজদারি তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
পাশাপাশি, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা যানবাহনটিকে দ্রুত মুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবহন ব্যবসায়ীদের হয়রানি রোধ করতে এবং যেকোনো ধরনের তোলাবাজি রুখতে পুলিশ ও পরিবহন প্রশাসনকে কড়া নজরদারির কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের শীর্ষ মহল থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রশাসনিক স্তরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা ধরা পড়লে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments