Newz Bangla, পূর্ব মেদিনীপুর: ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ফের রক্তাক্ত জাতীয় সড়ক। দীঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কে লরির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন চার জন। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দু'জন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে হেঁড়িয়া সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তি…
Newz Bangla, পূর্ব মেদিনীপুর: ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ফের রক্তাক্ত জাতীয় সড়ক। দীঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কে লরির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন চার জন। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দু'জন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে হেঁড়িয়া সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন একটি বেসরকারি বাসের মালিক, চালক এবং খালাসিও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়ক ধরে যাওয়ার সময় একটি বেসরকারি বাসে আচমকাই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। চালক বাসটিকে হেঁড়িয়ার কাছে রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে মেরামতির কাজ করছিলেন। সেই সময় বাসের নিচে ও পাশে দাঁড়িয়ে তদারকি করছিলেন বাসের মালিক, চালক, খালাসি-সহ কয়েকজন।
ঠিক তখনই ঘটে সেই বিপত্তি। দীঘাগামী একটি দ্রুতগতির ১০ চাকার লরি আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বাসটির পিছনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। বাসের নিচে ও পাশে থাকা ব্যক্তিরা লরির চাকায় পিষ্ট হন।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু চার জনের
বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তাঁরাই প্রথম উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় রক্তাক্ত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ঘটনাস্থলেই চার জনের মৃত্যু হয়।
- মৃতদের তালিকা: বাসের মালিক, চালক, সহকারী চালক (খালাসি) এবং আরও এক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি।
- আহতদের অবস্থা: দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দু'জন। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে তমলুক জেলা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
তদন্তে পুলিশ :
ঘটনার পর জাতীয় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ এসে দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরি ও বাসটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, ভোররাতের দিকে লরির গতি অত্যন্ত বেশি ছিল এবং চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘাতক লরিটিকে আটক করা হয়েছে। মৃতদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

No comments