Deep Sea Port : শিল্পের আলোয় যেন ঢেকে না যায় মৎস্যখঁটির উনুন, দাদনপাত্রবাড়ে এখন একটাই প্রার্থনা, ‘উন্নয়ন হোক, চাকরী হোক, কিন্তু মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু যেন না হারায়’ ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Deep Sea Port : শিল্পের আলোয় যেন ঢেকে না যায় মৎস্যখঁটির উনুন, দাদনপাত্রবাড়ে এখন একটাই প্রার্থনা, ‘উন্নয়ন হোক, চাকরী হোক, কিন্তু মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু যেন না হারায়’ !

Newz-Bangla, মন্দারমণি: গোড়া থেকেই একে পর এক প্রশ্ন এবং জট ছিল তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দরের নির্মাণ-পরিকল্পনা ঘিরে। অবশেষে তাজপুরের সেই প্রস্তাবিত (Deep Sea Port) বন্দর প্রকল্প বাতিল করল রাজ্য সরকার। তার বদলে পূর্ব মেদিনীপুরের উপক…

 


Newz-Bangla, মন্দারমণি: গোড়া থেকেই একে পর এক প্রশ্ন এবং জট ছিল তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দরের নির্মাণ-পরিকল্পনা ঘিরে। অবশেষে তাজপুরের সেই প্রস্তাবিত (Deep Sea Port) বন্দর প্রকল্প বাতিল করল রাজ্য সরকার। তার বদলে পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলেরই দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, মুখ্যসচিব ও শিল্পসচিবের মূল্যায়নে দেখা গিয়েছে যে তাজপুরে এই প্রকল্পের কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দাদনপাত্রবাড়েই হতে চলেছে রাজ্যের নতুন গভীর সমুদ্র বন্দর।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বন্দরটি নির্মাণের ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সঙ্গেও রাজ্যের কথা হয়েছে। নির্মাণের পরে প্রাপ্ত রাজস্ব কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ভাগাভাগি হবে। এর পাশাপাশি, রাজ্যকে কেন্দ্রের ‘সাগরমালা’ প্রকল্পে যুক্ত করা ছাড়াও কলকাতায় ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্পের শরিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দাদনপাত্রবাড়ে এবং দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর মৌজায় প্রচুর সরকারি জমি রয়েছে, যার কিছু অংশে বেঙ্গল সল্ট সংস্থার পরিত্যক্ত কারখানা রয়েছে। দাদনপাত্রবাড়ে বর্তমানে সরকারের নিজস্ব ১৭০০ একর জমি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দরকারে সেখানে আরও জমি নেওয়া হবে। গোটা এলাকাটি রামনগর-২ ব্লকের অন্তর্ভুক্ত।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় এলাকায় নতুন করে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা অমলেন্দু গিরি ও অশোক পণ্ডা জানান:

​"এখানে গভীর সমুদ্র বন্দর হলে প্রচুর ছেলেমেয়ে কাজ পাবে। আগে এই এলাকার অর্থনীতি শুধু পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল ছিল, এবার সেই চাকা ঘুরবে"।


​শঙ্করপুরে বন্দরের সাইট অফিসের পাশে চায়ের দোকানদার বাপি নায়েকও আশাবাদী। তিনি বলেন, "সাত বছরে কিছুই হয়নি। এখন যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই জেলারই বাসিন্দা, তাই তিনি নিশ্চিতভাবেই বন্দর গড়বেন"।

​স্থানীয় দাদনপাত্রবাড়ের পঞ্চায়েত সদস্য রবীন্দ্রনাথ মান্না এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। কাঁথি মহকুমার ওপর এর ফলে ভালো ডেভলপমেন্ট হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার ব্যক্তিগত অনুরোধ, বন্দর করতে গিয়ে যাঁদের ঘরবাড়ি ভেঙে যাবে, তাঁদের যেন সঠিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয় এবং স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করা হয়।"

​অন্যদিকে, এলাকার অপর এক বাসিন্দা বাবলু কুমার গিরি জানান, "এখানে ১৭০০ একর জমি পড়ে রয়েছে যা আগে বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির ছিল। এখানে বন্দর বা শিল্প হলে আমাদের এলাকার উন্নয়ন হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উপকার হবে। তবে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, এখানকার খাস বা পাট্টা জমিতে যে সমস্ত গরিব মানুষ বসবাস করছেন বা চাষবাস ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাঁদের যেন কোনও ক্ষতি না হয়। এছাড়া দাদনপাত্রবাড়, চণ্ডীপুর ও শৌলা মৎস্যখঁটির ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের জীবিকার দিকটিও মাথায় রাখা প্রয়োজন।"

No comments