নিজস্ব প্রতিবেদন, তমলুক: রাজ্যে পঞ্চায়েত রাজনীতির ইতিহাসে অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক পালাবদল। বাংলায় এই প্রথমবার কোনও জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল শুভেন্দু অধিকারীর গড় বলে পর…
নিজস্ব প্রতিবেদন, তমলুক: রাজ্যে পঞ্চায়েত রাজনীতির ইতিহাসে অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক পালাবদল। বাংলায় এই প্রথমবার কোনও জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল শুভেন্দু অধিকারীর গড় বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ চলে গেল পদ্ম শিবিরের হাতে।
সোমবার জেলা পরিষদের সতীশচন্দ্র সামন্ত সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সাধারণ সভায় নতুন সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন বিজেপির শ্রী বামদেব গুচ্ছাইত (গুছাইত)। একই সঙ্গে নতুন সহ-সভাধিপতি হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীমতী পূর্ণিমা দাস। (উল্লেখ্য, দলীয় স্তরে প্রথম দিকে সহ-সভাধিপতি হিসেবে বাঁসুরি পণ্ডিতের নাম নিয়ে আলোচনা হলেও, শেষ পর্যন্ত সভায় বাঁসুরি পণ্ডিতের প্রস্তাবনাতেই পূর্ণিমা দাসের নাম সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়)।
নাটকীয় সমীকরণ: বিনা ভোটাভুটিতেই জয়
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তৃণমূলের ভরাডুবির পর নৈতিক বিপর্যয়ের দায় নিয়ে সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূলের উত্তমকুমার বারিক। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেন সহ-সভাধিপতি সুহাসিনী কর-ও। এরপরই সোমবার নতুন বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে এই বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হয়েছিল।
মজার বিষয় হলো, জেলা পরিষদের মোট ৭০টি আসনের মধ্যে সমীকরণ অনুযায়ী তৃণমূলের আসন ছিল ৫৬টি এবং বিজেপির ছিল ১৪টি (দুই সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় বর্তমান আসন সংখ্যা ৬৮)। তবে সোমবারের বিশেষ সাধারণ সভায় নাটকীয়ভাবে কোনো ভোটাভুটি হয়নি। উপস্থিত ৬৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুচ্ছাইতের নাম সভাধিপতি পদের জন্য উত্থাপন করেন বিজেপি সদস্য জয়দেব মিদ্যা। সভায় উপস্থিত সমস্ত সদস্যই এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। অন্যদিকে, সহ-সভাধিপতি পদে পূর্ণিমা দাসের নাম প্রস্তাব করেন বাঁশুরি পণ্ডিত, যা সর্বসম্মতিতে পাস হয়ে যায়।
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের স্মৃতি ও বৃত্ত সম্পূর্ণ
২০০৮ সালের ঐতিহাসিক পঞ্চায়েত নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারকে হারিয়ে প্রথমবার এই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের দখল নিয়েছিল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম আন্দোলন ও ভূমি উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনের হাত ধরে তৃণমূলের গ্রামীণ বাংলায় যে উত্থান শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে সেই জেলা পরিষদ হাতছাড়া হওয়াকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি "ঐতিহাসিক বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়া" হিসেবে দেখছেন।
‘উন্নয়নের এই যাত্রা আরও শক্তিশালী হোক’: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে বিজেপির এই প্রথম ঐতিহাসিক বোর্ড গঠন নিয়ে নবনির্বাচিত সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গৈরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান:
"অত্যন্ত আনন্দের বিষয়, ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার কোনো জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন করেছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ আজ থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সকল সম্মানিত সদস্য ও সদস্যাগণ সর্বসম্মতিক্রমে শ্রী বামদেব গুছাইত কে সভাধিপতি এবং শ্রীমতী বাঁসুরি পণ্ডিত ও নির্বাচিত পূর্ণিমা দাস সহ নতুন নেতৃত্বকে বেছে নিয়েছেন। নবনির্বাচিত উভয়কেই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গৈরিক অভিনন্দন জানাই।"
মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, "আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের দক্ষ নেতৃত্ব, জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার এবং উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পূর্ব মেদিনীপুরের সার্বিক অগ্রগতি আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে। জনতার আশীর্বাদে উন্নয়নের এই যাত্রা আরও শক্তিশালী হোক।"

No comments